লক্ষ্য হবে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা
যে কোনো সময় ইরানে বড় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করছে দখলদার ইসরায়েল। আর সবুজ সংকেত পেলেই ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা শুরু করবে তারা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় সবুজ সংকেত দেবে এমন বিষয় মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
আরও পড়ুন: হাড় না ভাঙা পর্যন্ত নারীদের মারতে পারবেন পুরুষরা!
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই ইরান-এ বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এ হামলা কয়েক সপ্তাহব্যাপী এবং ব্যাপক আকারের হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ভেনেজুয়েলা-তে যুক্তরাষ্ট্র যে সীমিত হামলা চালিয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রে তেমন নয়; বরং মিসাইল ও বিমান হামলার মাধ্যমে বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হতে পারে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই অভিযানে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে পারে। যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তা দেশটির সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে পারিবারিক সহিংসতাকে ‘বৈধতা’ দিল তালেবান: নতুন দণ্ডবিধি জারি
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়েছিল এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অবস্থান নিয়েও আলোচনায় বলা হয়েছে, গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় তিনি হামলার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। পরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে কৌশল বদলে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পথ নেয় হোয়াইট হাউস।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-য় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-র সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জের্ড ক্রুসনার-এর তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়। সেখানে মার্কিন প্রস্তাবের বেশিরভাগ শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান আরাগচি। ফলে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দ্রুত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, ইরানে তাৎক্ষণিক বিমান হামলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সংঘাত ডেকে আনতে পারে এবং এর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও সুদূরপ্রসারী হতে পারে।





