ইরানের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’এখন হরমুজ প্রণালী
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী— (আইআরসিপি)—দাবি করেছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালী এখন তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরসিপির নৌ শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকবরজাদে এ দাবি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: লেবাননে দূতাবাসে হামলা হলে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য
বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজ বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৌশলগত এই সমুদ্রপথ এখন পুরোপুরি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটও তাৎপর্যপূর্ণ। এর একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী প্রয়োজন হলে এসকর্ট প্রদান করবে। এতে করে দুই দেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, চাপ পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ওয়াশিংটন নতুন সতর্কতা জারি করেছে। সৌদি আরব, ওমান, সাইপ্রাস-এ অবস্থানরত অ-জরুরি মার্কিন কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কুর্দি নেতৃত্বের সঙ্গে ইরানবিরোধী সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার খবরও সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের হুমকি কার্যকর হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি রপ্তানি এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





