মীরজাফরের বংশধরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ, পরিবারের অসন্তোষ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৩ অপরাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে মীরজাফরের বংশধরের অনেক নাম। নির্বাচনী সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নামের তালিকা ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হচ্ছে।

মুর্শিদাবাদের লালবাগের ‘কেল্লা নিজামত’ ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত নবাব বংশের ১৫০-এর বেশি সদস্যের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: ইরানের বৃহত্তম সেতু ধ্বংস করল মার্কিন বাহিনী, নিহত ৮

বাদ পড়েছেন ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা এবং তার পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জাও।

পরিবার জানিয়েছে, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর অনেক সদস্যকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল এবং সেখানে সব প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন। তবু বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের পর এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকেও সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প

ছোটে নবাবের পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা বলেন, “১৯৪৭ সালে অনেক প্রলোভন সত্ত্বেও আমাদের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য পাকিস্তান না গিয়েই ভারতে থেকে গিয়েছিলেন। এত বছর পর কেন আমাদের নতুন করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, মীরজাফর পরিবারের একজন নামজাদা সদস্য পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। ইস্কান্দার আলি মির্জা পাকিস্তানের চতুর্থ ও শেষ গভর্নর জেনারেল এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার জন্ম লালবাগের কেল্লা নিজামতে, যেখানে বর্তমানে থাকেন ছোটে নবাব সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা এবং তার পুত্র সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা।

ভারতে মীরজাফরের বংশে বর্তমানে প্রায় হাজার তিনেক সদস্য আছেন।

ছোটে নবাবের পুত্র ফাহিম আলি মির্জা বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি না কেন আমাদের এত সদস্যের নাম বাদ দেওয়া হলো। এর জবাব নির্বাচন কমিশন দেবে। তবে আগে আমাদের নামের সাথে ছোটখাটো পরিবর্তন হয়েছিল। ২০০২ সালের তালিকা অনুযায়ী বাবার নাম ছিল ‘মহম্মদ রেজা আলি মির্জা’, আমার নাম ছিল ‘সৈয়দ ফাহিম মির্জা’, পরে আমরা সংশোধন করেছি। তবু এবার আমাদের নাম প্রথমে ‘বিবেচনাধীন’ ছিল এবং এখন সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, নাম বাদ পড়লে ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ আছে, কিন্তু শুনানি সম্পন্ন হতে এত সময় লাগবে যে বিধানসভা ভোটের আগে কেউ ভোট দিতে পারবে না।