সেনাপ্রধানের পর এবার অ্যাটর্নি জেনারেলকেও সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:০৭ অপরাহ্ন, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি কে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত একটি পোস্টে জানিয়েছেন, বন্ডি এখন বেসামরিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন পদে যোগ দিচ্ছেন। তবে কেন তাকে সরানো হলো, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।

আরও পড়ুন: ইরানের বৃহত্তম সেতু ধ্বংস করল মার্কিন বাহিনী, নিহত ৮

প্রেসিডেন্ট পোস্টে লিখেছেন, পাম বন্ডি একজন মহান দেশপ্রেমিক এবং বিশ্বস্ত বন্ধু, যিনি এক বছর ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি দেশজুড়ে অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, যার ফলে ১৯০০ সালের পর হত্যাকাণ্ডের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ট্রাম্প বন্ডির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন, যার মধ্যে ছিল জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত ফাইলের পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তদন্ত বা বিচারকার্য না করা।

আরও পড়ুন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অর্ধেক সক্ষমতা এখনও অক্ষত: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

পাম বন্ডি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ রাখতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি আগামী এক মাস দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজ করবেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বন্ডির প্রশংসা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বন্ডির দায়িত্বকালে, তিনি ট্রাম্পের নীতির দৃঢ় সমর্থক ছিলেন এবং হোয়াইট হাউজ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ঐতিহ্য ভেঙে তদন্ত পরিচালনা করেছেন। তবে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে সমালোচনাই তার দায়িত্বকালকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাকে সমালোচনা করেছেন।

এক সূত্র জানায়, বুধবার হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বন্ডিকে জানিয়েছিলেন, তাকে প্রতিস্থাপন করা হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেন।

বন্ডি বুধবার তার দিনের বেশিরভাগ সময় ট্রাম্পের সঙ্গে কাটান। সকালেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে উপস্থিত হন, পরে ইস্টার উপলক্ষে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং রাতে ইরান যুদ্ধ বিষয়ে ট্রাম্পের ভাষণ শোনেন।

সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন, যখন বন্ডির অধীনস্থ কর্মকর্তা সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার বিচারপতিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। সেখানে প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।