দুই সপ্তাহের মধ্যে খামেনির জানাজা ও দাফন, লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, ০৩ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিকবিষয়ক উপপ্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ।

এক বৈঠকে তিনি জানান, জিলহজ মাসের শেষভাগ এবং মহররম মাসের শুরুতে জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তাভাকোলিজাদেহ বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির বিদায় উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী শোক মিছিল ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হবে। এরপর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা রাজধানী তেহরানে অন্তত ২৪ ঘণ্টাব্যাপী চলতে পারে।

তিনি জানান, এ অনুষ্ঠানে তেহরানে দেড় থেকে দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য এই বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদ শহরেও জানাজার আয়োজন করা হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও পৃথক স্মরণানুষ্ঠানের প্রস্তাব এসেছে।

পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক গুরুত্বও পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ ও প্রতিনিধি দলের আগমনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর পরিচালিত হামলার সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন।