ইসরাইলকে শর্তহীনভাবে লেবানন ছাড়ার আহ্বান হিজবুল্লাহ প্রধানের

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:৪৮ অপরাহ্ন, ২৬ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরাইলকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে লেবানন ত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।

শুক্রবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ইসরাইল কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে লেবাননে অবস্থান করছে না। বরং দেশটিকে দখল করার উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫, নিখোঁজ ৪৬ হাজারের বেশি

নাঈম কাসেম বলেন, ‘আমাদের সংযম কোনো দুর্বলতার পরিচয় ছিল না। এটি ছিল ধৈর্যের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সহনশীলতাই বিজয়ের পথ তৈরি করে। আমাদের ধৈর্য ভবিষ্যৎ গঠন করে, সমীকরণ বদলে দেয় এবং অত্যাচারীর নিপীড়নকে ভেঙে চূর্ণ করে।’

আরও পড়ুন: শি জিনপিং ও তারেক রহমানের বৈঠক আজ

হিজবুল্লাহ প্রধান স্পষ্টভাবে জানান, লিটানি নদীর উত্তরাঞ্চলে সংগঠনটির নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন প্রত্যাহারের পর অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে।

তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা। তবে তারা সেই পরিকল্পনা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছেন।

নাঈম কাসেম বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের ফলেই প্রতিরোধ আন্দোলন বা রেজিস্ট্যান্সের জন্ম হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে তাদের যোদ্ধারা আলী তাহের পাহাড়ে অবস্থান করছেন।

লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে বাইরের শক্তির খবরদারি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থ অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন বন্ধ করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, লেবাননের কর্তৃপক্ষ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈরিতা করার ঝুঁকি নিতে পারে না।

নাঈম কাসেম দাবি করেন, তারা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছেন এবং এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, লেবানন সরকার যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে যায়, তাহলে প্রতিরোধ যোদ্ধারা সরকারের পাশে থাকবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সমঝোতায় পৌঁছানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরাজয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

তার ভাষ্য, ইরান নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরাজয় স্পষ্ট হয়েছে।