তানোরে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কার, মান নিয়ে অসন্তুষ্ট স্থানীয়রা

Sadek Ali
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:০৪ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহীর তানোরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে উপজেলার কাশিম বাজার-বায়া বাজার সড়কের প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার সংস্কার কাজে ধীরগতি জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁচেচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বিত হওয়ায় শুরুতে ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কাজের অগ্রগতি ও নির্মাণমান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। কালীগঞ্জ হাটে আরসিসি ঢালাইয়ের যতটুকু রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে সেটাও সিডিউল অনুযায়ী হয়নি।আবার ছিটেফোঁটা বৃষ্টির মধ্যে ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে।সরেজমিন তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে জানান এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন: আশা’র উদ্যোগে সিলেটজুড়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান

চাঁন্দুড়িয়া এলাকার যুবক রবিউল ইসলাম  বলেন, সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে খুবই খারাপ ছিল। এখন যে সংস্কার কাজ হচ্ছে, তা বেশ ভালো মানের মনে হচ্ছে না। কাজ শেষ হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে।কিন্ত্ত যেভাবে কাজ হচ্ছে তাতে রাস্তার মান ও স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকার শিক্ষক আলমগীর বলেন, কাজে দীর্ঘসুত্রতা ও নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আমরা চাই সিডিউল অনুযায়ী কাজটি দ্রুত শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।

এদিকে পথচারীরাও জানান, কাজের কারণে কিছুদিন বেশ কিছুদিন থেকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে রাস্তার উন্নয়ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। কিন্ত্ত কাজের মান নিয়ে তারা চরম অসন্তুষ্ট।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মিলন গ্রেফতার

স্থানীয়রা বলেন,প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে প্রায় ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।কিন্ত্ত কাজের যে মান তাতে অর্ধেক টাকাও ব্যয় করা হয়নি।সরেজমিন কার্পেটিং,বেড ও বিটুমিনের মান পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।তারা বলেন,রাস্তার বেডে ও এজিংয়ে পুরাতন ইট-খোয়াসহ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার করা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সৈকত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী টিজার নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলজিইডির নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শতভাগ সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। কাজ কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয়, ফলে পাথর ও বিটুমিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একসময় প্রতি টন বিটুমিনের দাম ৭০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ৭ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল, যা সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসায় আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার আশা করছি।

এবিষয়ে তানোর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, তানোর উপজেলায় বর্তমানে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কাশিম বাজার-বায়া সড়কের কাজ অন্যতম। আমরা সব প্রকল্পই গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছি। এখানে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।

এবিষয়ে রাজশাহী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, সড়কটির নির্মাণকাজ আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে উপকরণ কম ব্যবহার বা মানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন। তাই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার চলমান সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ হলে কাশিম বাজার-বায়া সড়কে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।