আজ ভোট

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জনমতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, ট্রাম্পের দল চাপে?

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩১ পূর্বাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৯ অপরাহ্ন, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ হবে। পাশাপাশি উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচিত হবেন নতুন সদস্যরা। এ ছাড়া ৩৬টি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে গভর্নর নির্বাচন। নির্বাচনের আগে গতকাল সোমবার শেষ দিনের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি।

নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। গত রোববার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, সাতটি রাজ্যের সিনেট ও গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত

গত ২৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত আলাস্কা, আইওয়া, ক্যানসাস, মেইন, ওহাইও, মিশিগান ও টেক্সাসের ৫ হাজার ৭০৮ জন ভোটারের ওপর জরিপটি চালানো হয়।

জরিপে সিনেট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের ৫০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৪ শতাংশের। গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ৩ তেলবাহী ট্যাংকারে মাইন বিস্ফোরণ, আগুন

সাতটি রাজ্যের সিনেট নির্বাচনে আলাদা আলাদাভাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও ক্যানসাসেও দলটির প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

বর্তমানে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সমর্থিত সদস্য রয়েছেন ৪৭ জন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি আসনে জয় প্রয়োজন। তবে তাদের জন্য এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্রয়োজনীয় আসনগুলো মূলত রিপাবলিকান-অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে।

তবে জরিপে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা পাঁচটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র পাওয়া গেছে। রাজ্যগুলো হলো ক্যানসাস, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও আলাস্কা। আইওয়ায় দুই দলের প্রার্থীর অবস্থান প্রায় সমান।

মিশিগানের সিনেট আসনটি বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে। সেখানেও দলটির প্রার্থী আবদুর রহমান আল-সাইয়েদ ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে তার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৫৩ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে রয়েছেন ৪২ শতাংশ।

টেক্সাসে ১৯৮৮ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেট নির্বাচনে জয় পাননি। তবে এবারের জরিপে দলটির প্রার্থী জেমস ট্যালারিকো রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের চেয়ে সাত শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। ট্যালারিকোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৫০ শতাংশ ভোটার। প্যাক্সটনের পক্ষে রয়েছেন ৪৩ শতাংশ।

ক্যানসাসেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪৯ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালের পক্ষে রয়েছেন ৪৪ শতাংশ।

চলতি বছরের শুরুতে টেক্সাস ও ক্যানসাসে ডেমোক্র্যাটদের এমন অবস্থানের সম্ভাবনা দেখা যায়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের কারণে দল দুটির প্রচলিত সমর্থনে পরিবর্তন আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

গভর্নর নির্বাচনেও এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। আইওয়া, আলাস্কা, মেইন, মিশিগান ও ওহাইওতে দলটির প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে ক্যানসাস ও টেক্সাসে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি।

টেক্সাসে বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জরিপে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা ইনোহোসার চেয়ে সামান্য পিছিয়ে রয়েছেন। অ্যাবটের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৭ শতাংশ ভোটারের। আর ইনোহোসার পক্ষে ৪৮ শতাংশ। ইনোহোসা জয়ী হলে তিনি হবেন রাজ্যটির প্রথম হিস্পানিক নারী গভর্নর।

ক্যানসাসেও দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৮ শতাংশ ভোটারের। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন ৪৭ শতাংশ।

অন্য রাজ্যগুলোর মধ্যে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন যথাক্রমে ৫২ ও ৩৯ শতাংশ। মেইনে ৪৯ ও ৩৭ শতাংশ, আইওয়ায় ৫১ ও ৪৩ শতাংশ, আলাস্কায় ৫৪ ও ৪৬ শতাংশ এবং ওহাইওতে ৪৯ ও ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন দুই দলের প্রার্থীরা।

জরিপের সঙ্গে নির্বাচনের ফলের ব্যবধানের শঙ্কা

জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস মিললেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের পার্থক্যের নজির রয়েছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জরিপে পিছিয়ে থাকার পরও জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইভাবে ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের সহজ জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়।

এ বিষয়ে জরিপ সংস্থা ইপসোসের প্রেসিডেন্ট ক্লিফোর্ড ইয়াং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকেই ফোনকল গ্রহণ করেন না কিংবা জরিপে অংশ নিতে চান না।

তিনি বলেন, রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে জরিপ এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা আরও বেশি। তারা জরিপে অংশ নিতে চান না এবং পুরো ব্যবস্থার প্রতিই বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। এটিই বর্তমানে জরিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি অংশ জরিপের বাইরে থেকে গেলে ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। ফলে জনমত জরিপের পূর্বাভাস বাস্তব নির্বাচনের ফলের সঙ্গে নাও মিলতে পারে।

জরিপের এই পূর্বাভাস কতটা বাস্তবসম্মত, তা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।