ট্রেনে আলাদা নারী কামরা বরাদ্দের আদেশ হাইকোর্টের
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের রেলপথে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট একটি কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, বিদ্যমান আইনের বিধান কার্যকর করেই এ ব্যবস্থা নিতে হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।
আরও পড়ুন: গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারায় প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য পৃথক কামরার বিধান রয়েছে। এছাড়া ৫০ মাইলের বেশি দূরত্বের ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ আছে। একই আইনের ১১৯ ধারায় অনুমতি ছাড়া ওই কামরায় প্রবেশ করলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই এ বিধান কার্যকর না হওয়ায় নারী যাত্রীদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। এ প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে আইনজীবী মমতাজ পারভীন হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন। পরে গত ১০ মার্চ আদালত রুল জারি করে জানতে চান, আইন অনুযায়ী প্রতিটি যাত্রীবাহী ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: মিরপুরের মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল
এরই ধারাবাহিকতায় বিচারাধীন ওই রিটে সম্পূরক আবেদন করা হলে আদালত ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন এ নির্দেশ দেন।
শুনানি শেষে আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, “আইনে বহু আগে থেকেই নারীদের জন্য আলাদা কামরার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ঈদে নারী যাত্রীদের অতিরিক্ত ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেই আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আদালত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ নির্দেশ দিয়েছেন।”
নারী অধিকারকর্মীরা আদালতের এ নির্দেশকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, উৎসবের সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে নারী ও শিশুদের নানা ধরনের হয়রানি ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। আলাদা কামরার ব্যবস্থা কার্যকর হলে নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটাই নিশ্চিত হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেলওয়েকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে ট্রেন পরিচালনা, নিরাপত্তা ও তদারকিতে সমন্বিত প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠেছে।





