মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৪:২৩ অপরাহ্ন, ৩০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চলতি বছরের ৩০ জুন (মঙ্গলবার) দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি হাসানুল হক ইনু নিজেই ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিন সদস্যের এই বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে ইনুকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষের কাঠগড়ায় আনা হয় এবং দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ পড়েন বিচারক শাহরিয়ার কবীর এবং সাক্ষীদের বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রমটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

আরও পড়ুন: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, চঞ্চলের ২০ বছরের কারাদণ্ড

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত শুরু করে। এরপর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গত বছরের ৩০ নভেম্বর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পর ১ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। জাসদ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী এবং আসামিপক্ষে ২ জন সাফাই সাক্ষী দেন। এরপর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে ১৪ মে পর্যন্ত চলে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক। গত ১৪ মে ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন এবং ২২ জুন রায় ঘোষণার দিন হিসেবে ৩০ জুন নির্ধারণ করা হয়। এই মামলায় চাক্ষুষ সাক্ষী ৩ জন, বিশেষজ্ঞ ২ জন, ভুক্তভোগী পরিবারের ১ জন, জব্দতালিকার সাক্ষী ২ জন, জেলার সাক্ষী ১ জন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা ১ জনসহ মোট ১০ জন জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া ২০ সিরিজ ডকুমেন্ট ও ৫টি বস্তু প্রদর্শনী হিসেবে পেশ করা হয়।

আরও পড়ুন: একযোগে পদত্যাগ করলেন ৭ ডেপুটি ও ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রসিকিউশনের আনা ৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী-জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগের উসকানি দেন ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলের বৈঠকে অংশ নিয়ে ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরে ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার এই নির্দেশনার পর তৎকালীন এসপি পুলিশ ও ১৪ দলের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় গুলি চালায়। এতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি, আটক-নির্যাতনের পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানিতে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। কারফিউ ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডকে তিনি কৌশলে সমর্থন করেন। এছাড়া ২৯ জুলাই জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেন এবং ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগের দিনও কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতা হত্যার পদক্ষেপকে অনুমোদন করেন তিনি।