জন্মনিবন্ধন করতে আর মা-বাবার জন্মসনদ লাগবে না
জন্মনিবন্ধন করতে এখন থেকে আর মা-বাবার জন্মসনদ লাগবে না। মা-বাবার জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করে নিয়ম কার্যকরের দেড় বছরের বেশি সময় পর তা তুলে দেওয়া হলো। গত ২৭ জুলাই থেকে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে গেলে সফটওয়্যারে মা-বাবার জন্মসনদ আর চাওয়া হচ্ছে না। এতে বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সন্তান, যাদের মা কিংবা বাবা যেকোনো একজনের সঙ্গে যোগাযোগ নেই এবং পথশিশুদের জন্মনিবন্ধন করতে যে জটিলতা ছিল, তা কাটবে বলে মনে করছেন ভোগান্তির শিকার মানুষেরা।
রেজিস্ট্রার জেনারেল মির্জা তারিক হিকমত সাংবাদিকদের বলেন, ২৭ জুলাই থেকে অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের আবেদন নেওয়ার সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন যাঁরা শিশুর জন্মনিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের কাছে আগের মতো মা-বাবার জন্মসনদ চাওয়া হবে না। তবে আগের নিয়মের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জন্মনিবন্ধনের আন্তর্জাতিক ব্যবহার সম্পর্কে জানার কারণে ভবিষ্যতের কথা ভেবে মা-বাবার জন্মসনদ চাওয়া হতো। এভাবে ৩০ লাখ শিশুর একক পরিচয়পত্র (ইউনিক আইডি) করা হয়েছে। এটা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের পরিচিতির একটি পদ্ধতি ছিল। মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় সে সুযোগটি নষ্ট হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনবান্ধব করতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সাংবাদিকদের জানায়, এখন থেকে হাসপাতালে জন্ম নেওয়ার পর দেওয়া ছাড়পত্র বা টিকার কাগজ যেকোনো একটি প্রমাণ দেখিয়ে শিশুর জন্মনিবন্ধন করা যাবে। এ নিয়ম আগেও কার্যকর ছিল। তবে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিয়মে পরিবর্তন এনে বলা হয়েছিল, ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্মনিবন্ধন করতে হলে তার বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন সনদ অবশ্যই প্রয়োজন হবে। ওই সময় জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা। এ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ‘মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও কেন সন্তানের জন্মনিবন্ধন করার জন্য মা-বাবারও জন্মনিবন্ধন করা লাগবে?
যেভাবে কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম
আরও পড়ুন: মন্ত্রী জাহিদ হোসেন: গণতন্ত্র সংকটে পড়লেই জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে
নতুন নিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেল বলেন, এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি। তবে সিস্টেম থেকে মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া হয়েছে। সেটা আবেদন করতে গেলেই বোঝা যাবে। এর আগে গত বছর যে নিয়ম কার্যকর হয়েছিল, সেই সময়েও কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি।
বিয়েবিচ্ছেদ হওয়া মা-বাবার সন্তান ও পথশিশুদের ক্ষেত্রে কী করা হবে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেল বলেন, এই আবেদনগুলো বিশেষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং নাগরিকেরা সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারতেন না। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) বা নিবন্ধন কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে আবেদন করতে হতো। যেহেতু মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা থাকছে না, তাই এ ধরনের পরিবারের শিশুরাও সাধারণভাবে এখন থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। তবে পথশিশুদের ক্ষেত্রে যারা মা-বাবার নাম বলতে পারবে না, তাদের আগের মতোই নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮–এর ৩ (গ) ধারা অনুসারে, কোনো ব্যক্তি এতিম, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন, পরিচয়হীন, বেদে, ভবঘুরে, পথবাসী বা ঠিকানাহীন বা যৌনকর্মী হলে যেসব তথ্য অসম্পূর্ণ থাকবে, সেসব স্থানে ‘অপ্রাপ্য’ লিখে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতির কারণ দেখিয়ে নিবন্ধক জন্ম বা মৃত্যুনিবন্ধন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না।





