সরকারি নিয়োগে অপেক্ষমাণ তালিকা বাধ্যতামূলক: নতুন পরিপত্র জারি

সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে ১০–২০তম গ্রেডের নিয়োগে অপেক্ষমাণ তালিকা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সোমবার নতুন পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতিটি পদে দুজন প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে। মূল তালিকা থেকে কেউ চাকরিতে যোগ না দিলে বা যোগ দেওয়ার পর কেউ পদত্যাগ করলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই তালিকার মেয়াদ হবে এক বছর।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে কিছু পক্ষ: সালাহউদ্দিন
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল ১৩–২০তম গ্রেডের নিয়োগে অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণের নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছিল। নতুন পরিপত্র জারির ফলে ১০–২০তম গ্রেডের সব নিয়োগেই অপেক্ষমাণ তালিকা রাখতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুসারে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের বিপরীতে প্রার্থীদের সুপারিশ করা হবে। মেধাক্রম অনুযায়ী প্রতিটি পদের জন্য দুজন করে প্রার্থীর নাম ও রোল নাম্বার সিলগালাকৃত খামে গোপনভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন
অপেক্ষমাণ তালিকার মেয়াদ হবে নিয়োগের সুপারিশের দিন থেকে এক বছর। তবে কোনো কারণে এর মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তালিকা আর কার্যকর থাকবে না। জরুরি না হলে এক বছরের মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা যাবে না।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর প্রার্থীর নাম ও রোল নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব শীর্ষে থাকা প্রার্থীকে মোবাইলে ফোন ও এসএমএস পাঠিয়ে নিয়োগের বিষয়টি জানাবেন। চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যোগাযোগ না করলে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীকে ডাকা হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তদের পরে নির্ধারণ করা হবে। একই দিনে একাধিক প্রার্থী নিয়োগ পেলে মেধাক্রম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে। পরীক্ষায় একই নম্বর হলে বয়স এবং তারপর শিক্ষাবর্ষের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি দপ্তরের যে পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে, শুধুমাত্র সেই পদে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। অন্য পদে তালিকা প্রযোজ্য নয়।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, অপেক্ষমাণ তালিকা থাকলে প্রার্থীরা বারবার আবেদন করতে হবে না এবং সরকারের খরচও বাঁচবে। এতে সহজেই শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৫১৯টি, যার মধ্যে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ১টি খালি। ১ম–৯ম গ্রেডের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৬টি পদের মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৯৮টি ফাঁকা। ১০–২০তম গ্রেডের ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩টি পদের মধ্যে ৪ লাখ ৭ হাজার ১০৩টি ফাঁকা। অর্থাৎ, ১ম–৯ম গ্রেডে ২৫.৬৬% এবং ১০–২০তম গ্রেডে ৩২.৫০% পদ ফাঁকা রয়েছে।