ভোট বানচালে দিল্লিতে হাসিনাকে ২৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে এস আলম, ফখরুলের অভিযোগ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে, সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার দুপুরে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এই সর্তকবার্তা জানান দেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে কিছু পক্ষ: সালাহউদ্দিন

তিনি বলেন, ‘আজকে একটা পত্রিকায সকালবেলা উঠে দেখলাম যে, বিরাট করে ব্লক করে খবর বেরিয়েছে যে, একজন ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যাংক লুটের জন্যে তিনি আ্ড়াই হাজার কোটি টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন হাসিনাকে। উনি এস আলম….দিল্লিতে বসে তিনি ইতিমধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছেন এবং পরিকল্পনা করেছেন যে, কিভাবে ওই টাকাকে ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশে নির্বাচন বন্ধ করবে এবং হাসিনাকে আবার দেশে ফিরিয়ে আনবে।’

এজন্যই আমি আপনাদেরকে সবসময় অনুরোধ করছি, অনেক বেশি সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে। অনেক বেশি আমাদেরকে এখন আমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা যদি মনে করে থাকি যে, আমরা জিতে গেছি, সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে তাহলে বিরাট ভুল হবে।

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আজকে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য, নির্বাচনকে ব্যহত করার জন্য নিত্য নতুন দাবি তুলে চলেছে। এমন এমন দাবি তুলছেন যার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষেরা পরিচিতই না। সংখ্যানুপাতিক পিআর, সংখ্যানুপাতিক ভোট এটা বুঝতে সময় লাগে,এটা বুঝানো কঠিন খুবই কঠিন।

এগুলো নিয়ে তারা হুমকি দিচ্ছে, কথা বলছেন, অত্যন্ত জোরেশোরে হুমকি দিচ্ছেন। আমার প্রশ্নটা হচ্ছে যে, কেন করছেন এটা?

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের যৌথ উদ্যোগে রাজনীতিক কাজী জাফর আহমদের ১০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বসে নেই কেউ। যারা আপনার ফায়দা নিতে চায় এরা বিভিন্নভাবে কাজ করেছে। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হবে যারা আমরা দেশকে ভালোবাসি কাজী জাফরের অনুসারী হিসেবে, যারা আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই,  যারা আমরা লড়াই করতে দ্বিধাবোধ করি না, যারা রক্ত দিতে দ্বিধাবোধ করি না, তাদেরকে আজকে আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই নূন্যতম বিষয়গুলোর উপরে একমত হয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ইদানিং মাঝে মাঝে আমার কাছে একটা হতাশার ছায়া ঘোরাঘুরি করে। যেদিকে তাকাই দেখি বেশিরভাগ মানুষই আপনার নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি, দুর্নীতি, দুর্নীতি… আপনি কোন অফিস আদালতে যেতে পারবেন না। আমি এর আগেও কথা বলেছি,  আমাকে একজন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট বলেছেন যে আগে এক লাখ টাকা দিতে হতো, এখন হয় পাঁচ লাখ টাকা।

অর্থাৎ এই পরিবর্তন যে পরিবর্তন নিয়ে আসার কথা ছিল মন মানসিকতার মধ্যে সেই পরিবর্তনটা কিন্তু আনতে পারেনি এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক নেতাটেতারাও এর মধ্যে জড়িত হয়ে পড়ছেন… যেটা আরো বেশি ক্ষতি করছে বাংলাদেশের জন্য। আজকে বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য আমাদের সকলের এগিয়ে আসা দরকার। এ দেশটা তো আমাদের।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ১৯৭১ সালে আমরা যারা যুদ্ধ করেছিলাম এখানে সবাই আছি।আমাদের অনেকে গুলি খেয়েছে, অনেকের ভাই মারা গেছে, মা মারা গেছে, বাড়িঘর পুড়ে গেছে, গ্রামের উপর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেই একাত্তরের  কথা আমরা ভুলি নাই,  ভা ভুলানো সম্ভব নয়।অনেক প্রচেষ্টা চলছে এটাকে ভুলে দেওয়ার জন্য।

আমরা চোখের সামনে দেখেছি আমাদের মা বোনদেরকে বেইজ্জতি করতে, চোখের সামনে দেখেছি আমরা আমাদের ভাইদের গলা কেটে ফেলে দিতে,  চোখের সামনে দেখে বাস থেকে নামিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে গুলি করে মেরে ফেলতে এবং যারা সেদিন সহযোগিতা করেছে তারাই আজকে অনেক বড় বড় কথা বলছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের ভেতরে একটা মহল তারা অত্যন্ত সচেতনভাবে চেষ্টা করছে যে, এই যারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি তারা যেন আসতে না পারে।

আপনি বলেন আজকে যখন দেখি পত্রিকায় যে, নিউইয়র্কে আমাদের বাংলাদেশের কর্মকর্তাকে, আমাদের বাংলাদেশের একজন  উপদেষ্টা অথবা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদেরকে আওয়ামী লীগের লোকেরা হেনস্তা করছে, হামলা করছে। তখন কোথায় যাব আমরা?

মির্জা ফখরুল বলেন, জিনিসপত্রের দাম মানুষ আবারো বেড়ে চলেছে। অর্থনীতির অবস্থা…আজকে আমার স্ত্রী সকালে ব্যাংকে ফোন করেছেন কিছু টাকা তোলার জন্যে। ব্যাংক বলেছে যে, সরি ম্যাডাম আমরা ৫ হাজার টাকার বেশি দিতে পারবো না। তাহলে কোথায় আমরা? এই এক বছরের মধ্যে যদি আমরা পরিবর্তন আনতে না পারি তাহলে কিভাবে কি হবে?

এইসব ঝামেলাগুলো এগিয়ে যেতে পারতো যদি তিন মাসের মধ্যে যদি নির্বাচনটা করতে পারত তারা একটা ইলেক্টেড গভমেন্ট তার সমস্ত ম্যান্ডেট নিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সমস্ত শক্তি উড়িয়ে দিতে পারতো।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এখনো বলি যে, সময় আছে..কাউন্ট ইউর সেন্সেস। অতি দ্রুত এই সনদ, এই সংস্কার… এগুলো জটিলতা বৃদ্ধি না করে শেষ করে ফেলেন এবং অতি দ্রুত নির্বাচনের যে ব্যবস্থা ঘোষণা দিয়েছেন সেটার চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিন।

রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করে ফেলুন এবং একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্বকে নিশ্চিত করুন। এছাড়া কোন বিকল্প নেই।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় জাতীয় পার্টির(কাজী জাফর) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার, মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নজমুল হক নান্নু প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।