কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন শাহ রিয়াজুল হান্নান

Sadek Ali
এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া
প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৩ অপরাহ্ন, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এর পক্ষে উপজেলা সদরের ঢাকা রোডে জোবায়দা হাসপাতাল সংলগ্ন মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি এ সভায় কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি বিজয়ী হলে সবার জন্য বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং সেইসাথে তিনি চাঁদাবাজিমুক্ত ঐক্যবদ্ধ কাপাসিয়া গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও আধুনিক কাপাসিয়া গড়তে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরার প্রাণবন্ত পরিচালনায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটু।

আরও পড়ুন: 'নির্বাচন আকাশে যাবে, ভোটের বাক্স নিয়ে যাবে নদীর দিকে'

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ আ স ম হান্নান শাহ্'র ছোট ভাই আমেরিকা প্রবাসী শাহ্ মোবারক হোসেন, কানাডা প্রবাসী কন্যা শারমিন সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি আবুল হাশেম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফ ম এমদাদুল হোসেন, নির্বাচন প্রচারণা কমিটির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা বিএনপি নেতা জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট মোঃ সোলায়মান দর্জী, ফ ম মমতাজ উদ্দিন রেনু, আব্দুল করিম বেপারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন শেখ, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু, নির্বাচন প্রচারণা প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল হক, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মতিউর রহমান, মহসীন আলম লিটন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোঃ মীর সেলিম, বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, দেলোয়ার হোসেন সরকার, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি শাহনাজ পারভীন শিখা, সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব জুনায়েদ হোসেন লিয়ন, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ ফরিদ শেখ, সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন শিশির, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মজিবুর রহমান টিক্কা, সাধারণ সম্পাদক ফুরকানুল মুকুল, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মেম্বার, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিক হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব আবুল বাসার মাষ্টার, প্রমুখ।

আরও পড়ুন: যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ গুলি ও মাদক উদ্ধার, আটক ২

এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি , সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, একটি ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলেন, বিগত দিনে আমার পিতাকে আপনারা ভোট দিয়ে এমপি- মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি আপনাদের রাষ্ট্রীয় আমানত যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানালে পিতার রেখে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। যে কোনো মূল্যে কাপাসিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো। উপস্থিত মা-বোনের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হলেই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখেন। 

পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদার বিগত দিনে এলাকার কোন উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ সহ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবার মধ্যদিয়ে দেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছে।

মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্'র প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা বিশ্বাস ছিলো। আপনাদের সাথে নিয়েই 'ফকির মজনু শাহ্ সেতু' সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিল। জীবদ্দশায় তিনি সকল কাজ করে যেতে পারেন নি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ গুলো সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের উপর দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশ পরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিরোধীদের বিপক্ষে সবাইকে দলমতের উর্ধ্বে উঠে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, কৃষকদের জন্য ১০টি সুবিধা সহ কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মহিলাদের ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার সংখ্যা বাড়ানো হবে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে। বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছোটখাটো পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সাবলম্বী হতে পারবেন। তাতে জায়গা জমির দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা হবে। আগামী নির্বাচনে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।