রোজ গার্ডেন কেনায় রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ন, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১১:০৯ অপরাহ্ন, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ভবন ‘রোজ গার্ডেন’ কেনায় রাষ্ট্রের প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে—এমন অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আওয়ামী লীগের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এই ভবনটি ২০১৮ সালে সরকার কিনে নেয়।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, “অনুসন্ধানে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই কমিশন ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুন: দায়িত্বে অবহেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা সিটির দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে রোজ গার্ডেন কেনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই শুরু করে।

২০১৮ সালের ৮ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে রোজ গার্ডেন অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ব্যক্তিমালিকানাধীন এই পুরাকীর্তিটি ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকায় কিনে নেয় সরকার।

আরও পড়ুন: নিজেই ড্রাইভ করে ঢাকার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত সম্মেলনেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই দলই স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়।

১৯৩১ সালে ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস পুরান ঢাকার ২২ বিঘা জমির ওপর বাগানবাড়িটি নির্মাণ করেন। দেশ–বিদেশ থেকে আনা বিরল গোলাপের বাগানের কারণে ভবনটির নাম হয় রোজ গার্ডেন। প্রায় সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের এই করিন্থীয়–গ্রীক স্থাপত্যশৈলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ছিল বৃহৎ জলসা ঘর, সাদা পাথরের মেঝে ও কাচের নকশা–যুক্ত সিলিং।

কিন্তু নির্মাণের অল্প সময় পরই ঋষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে যান এবং ১৯৩৬ সালে বাড়িটি বিক্রি করেন বই ব্যবসায়ী কাজী আবদুর রশিদের কাছে। পরবর্তীতে এটি ‘হুমায়ূন সাহেবের বাড়ি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

১৯৭০ সালে ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয় মোশন পিকচার্স লিমিটেডকে, যা পরে ‘বেঙ্গল স্টুডিও’ নামে জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৯৩ সালে স্টুডিও চলে গেলে ভবনটি আবার কাজী পরিবারের মালিকানায় ফিরে আসে।

১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করলেও পরে মালিকানা ফেরত দেওয়া হয় মূল মালিকদের পরিবারকে। লায়লা রকীব ও তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে সরকার রেজিস্ট্রেশন দলিলের মাধ্যমে ভবনটি কিনে নেয়।

রোজ গার্ডেন কেনার আর্থিক মূল্যায়ন, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া, মালিকানা যাচাই এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এখন কাজ করছে দুদক। কমিশন জানিয়েছে, অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।