ভবন নির্মাণে সতর্কতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূমিকম্প ফ্রন্টলাইন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ
দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সর্বোচ্চ সাত মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির সক্ষমতা রাখা ফল্ট লাইনগুলো এখন বড় আতঙ্কের কারণ। অথচ দুর্যোগ মোকাবিলায় আইন থাকলেও নেই তার প্রয়োগ। তাই ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেইসঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বাইরে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভবন তদারকির কথাও বলা হয়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ডিআরইউতে পেশাজীবী সংগঠন পেপার্স আয়োজিত ‘ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ৭ বা তার কাছাকাছি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার ফল্ট রয়েছে। দেশের উত্তর আর পূর্বাঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
মাটি কেমন এবং জনবসতি কতটা—এর ওপর ভূমিকম্প কত গভীরতায় হবে তা নির্ভর করে জানিয়ে তিনি বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। বিল্ডিং কোড, রুলস-রেগুলেশন ইমপ্লিমেন্টের জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘খেলাধুলায় মাদকমুক্ত সমাজ, তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজতে চাই: আমিনুল হক’
বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক স্থপতি ড. খন্দকার সাব্বির আহমেদ বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিল্ডিং কোড রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। এছাড়া এআই ব্যবহার করে এখন ভূমিকম্প আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক নিজেই ছাড়পত্র দিচ্ছে, নকশার অনুমোদন দিচ্ছে—তাই নির্মাণের সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাজউকের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ করতে হবে।
নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকাজে বেশি বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণে সেই বিনিয়োগ দেখা যায় না।
ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণের পরামর্শ দিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ভূমিকম্পের সময় ভবনের কোথায় থাকতে হবে তা নিয়ে সচেতন হতে হবে। ইঞ্জিনিয়ার এবং স্থপতিদের যথোপযুক্ত ট্রেনিং দিতে হবে।





