এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ৮০ শতাংশই নারী: প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকবেন এবং তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন।
শনিবার সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব হবে গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা। শহরেও তারা কাজ করবেন, তবে অগ্রাধিকার থাকবে গ্রামীণ অঞ্চলে। পরিবারের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি কমানো যায়—এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারাদেশে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্বৈরাচারী শক্তি আবারও ষড়যন্ত্রের ফণা তুলেছে: প্রধানমন্ত্রী
সিলেটের জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে। অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, অতিবৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে হাওরাঞ্চলে, বিশেষ করে সুনামগঞ্জে বন্যার কারণে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে, যা শুধু সিলেট নয়, ঢাকাসহ অন্যান্য শহরেও উদ্বেগজনক। বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা গেলে তা কৃষি ও নগরজীবনে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
নদী দূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানি দূষণ বাড়ছে। বুড়িগঙ্গা নদী-এর পানির দূষণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিটি করপোরেশনগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব আচরণ শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট থেকে ঢাকায় সড়কপথে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগে, যা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি জানান, কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি রেলপথ উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা-সিলেট রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
এর আগে সকালে তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছান এবং পরে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।
পরে নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন তিনি।





