আইন সংশোধন করে র‍্যাবকে একটি দায়িত্বশীল বাহিনীতে পুনর্গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৮ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী দিনে র‍্যাবকে একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুর্নগঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  মন্ত্রী সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে র‍্যাব ফোর্সেস এর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান। 

মন্ত্রী বলেন, র‍্যাবকে একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুর্নগঠনের লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- র‍্যাব সদস্যদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার সময় আন্তর্জাতিক মানদন্ড রক্ষা করে ন্যূনতম বল প্রয়োগ, মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, অপরাধ দমনে এআই (Al) এর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এ লক্ষ্যে অতিশীঘ্রই র‍্যাব ফোর্সেস এর জন্য জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন ও কৌশল বিবেচনায় সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা ও কার্যক্রমকে আরও উন্নতকরণ; জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন; মানবাধিকার, আইনের শাসন ও পেশাগত নৈতিকতার মানদণ্ড  বজায় রেখে নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখা; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত র‍্যাব আইন প্রণয়ন, ইত্যাদি। 

আরও পড়ুন: গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মন্ত্রী আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় সরকারের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যাবে না। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সুনাম ও গৌরব বজায় রেখে কাজ করে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। সারাবিশ্বের নিকট প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে বিবেচনায় র‍্যাবের বিদ্যমান আইন পরিবর্তন ও সংশোধনপূর্বক এটিকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যাতে করে এলিট ফোর্সটির সদস্যদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। একইসঙ্গে র‍্যাবের বিদ্যমান নাম পরিবর্তনের কথাও বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানকে নিয়ে জনগণের মধ্যে তৈরি আস্থা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ টলাতে পারছে না : রিজভী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের মেয়াদে র‍্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, র‍্যাব যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তখন র‍্যাবকে কেবল সে উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় র‍্যাবকে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির। স্বাগত বক্তৃতা করেন র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ।

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ সহ বিভিন্ন সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।