তারেক রহমানকে নিয়ে জনগণের মধ্যে তৈরি আস্থা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ টলাতে পারছে না : রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান বাস্তবায়ন করে করে যাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নানা ধরনের কথা বলছেন, এটিকে ডাইভার্ট বা বিকৃত করার জন্য কথা বলছেন; কিন্তু তারেক রহমানকে নিয়ে জনগণের মধ্যে যে আশার আলো ও আস্থার তৈরি হয়েছে, সেটাকে তারা টলাতে পারছেন না। সোমবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং আগামী দিনে হেলথ কার্ড করবেন—সেই প্রতিশ্রুতিসহ ইতিমধ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন এবং ব্যাপকভাবে সারা বাংলাদেশে সাড়া দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তার পিতার পথ ধরেই তিনি আবারও এই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আবারও খাল কাটা কর্মসূচি তিনি চালু করেছেন এবং ইতিমধ্যেই এটি সারা বাংলাদেশে সাড়া ফেলেছে। যেখানেই যাচ্ছেন, তিনি খাল কাটা কর্মসূচি পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: আইন সংশোধন করে র্যাবকে একটি দায়িত্বশীল বাহিনীতে পুনর্গঠন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং পূরণ করার মধ্যে আগে এদেশে যে বড় ঘাটতি দেখা গিয়েছিল—বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াতে পারেনি, ঘরে ঘরে চাকরি দিতে পারেনি, বিনামূল্যে সার দিতে পারেনি—কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের নেতা তারেক রহমান ততটুকুই বলেছেন, যতটুকু কাজ জনকল্যাণে আমাদের এই সোসিও-ইকোনমিক কন্ডিশনে সম্পাদন করা সম্ভব। ঠিক সেটাই তিনি বলেছেন এবং সেটাই তিনি করছেন।
রিজভী বলেন, ক্ষণজন্মা যুগপুরুষ জিয়াউর রহমান দেশের এক ক্রান্তিকালে এদেশের রাজনীতি এবং রাষ্ট্রক্ষমতার পথপ্রদর্শকের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিলেন। তার পূর্বে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছিল, এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং দেশ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল। সর্বত্র চলছিল ভয়ঙ্কর রকমের রক্তপাত, সহিংসতা ও খুনোখুনি। স্বাধীনতা-উত্তর সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের এক পর্যায়ে জনগণ এবং সিপাহিরা যৌথভাবে দেশে এক শান্তিময় পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতিকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। তার যে সাফল্য, তা আজও ইতিহাসের পাতায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে লিখিত আছে। এদেশের দলমত নির্বিশেষে তার আমলের স্বস্তি, শান্তি, আইনের শাসন ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি যে যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছিলেন, তা আজও মানুষের মনে অম্লান হয়ে আছে, মানুষের মনে আজও গেঁথে আছে।
আরও পড়ুন: গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মানুষের কর্মসংস্থান এবং বিদেশে কর্মী প্রেরণের জন্য নানাবিধ কর্মপন্থা গ্রহণ করেছিলেন জিয়া। নানাবিধ সংস্কার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ করেছিলেন। তিনি খাল কাটার মতো একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার, প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার খাল তিনি কেটেছিলেন। কারণ আপনারা জানেন, তখন অভিন্ন নদীর পানি বন্ধ করে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া চলছিল। সবচাইতে বড় নদী পদ্মার অদূরে, আমাদের বাংলাদেশের সীমা থেকে মাত্র ১৭-১৮ কিলোমিটার দূরে ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদের প্রমত্তা পদ্মা ও কীর্তিনাশা পদ্মাকে একেবারেই শুকনো বালির একটি ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু দেশীয় উন্নয়ন এবং উৎপাদনের দিকেই মনোযোগ দেননি, তিনি দেশীয় স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকেও শক্তিশালী করেছেন নানা পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে। ফারাক্কার প্রভাবে যে ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল, আমাদের কৃষিক্ষেত বিরান হচ্ছিল এবং পদ্মার সাথে সংশ্লিষ্ট উপনদী ও শাখা নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছিল—যার ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর অঞ্চল শুষ্ক হয়ে পড়ছিল, এটার জন্য তিনি নেপথ্য থেকে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে সংগ্রাম করেছেন। এই ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি তিনি আন্তর্জাতিক দরবারে নিয়ে গিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা তুলে ধরেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী চেতনা, তা জনগণের কাছে এক অভূতপূর্ব প্রেরণার সৃষ্টি করেছে। তিনি সেই স্বল্প পরিসরের মধ্যেই একটি দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশকে, একটি হতাশাগ্রস্ত জাতিকে আশার আলোয় উদ্ভাসিত করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এটি হলো তার একটি দিক। আরেকটি দিক হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র। যে গণতন্ত্রকে ধারালো তরবারির মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি হত্যা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করেছিল, সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করলেন জিয়াউর রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন, অনেক দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করল এবং প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে কথা বলা শুরু করল। তাই এই মহান মানুষটির অবদান আজ ভুলে যাওয়ার নয়।





