গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৮ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো বৈশ্বিক মানে প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নিয়ে শিক্ষাবিদদের আরও ভাবতে হবে।

আরও পড়ুন: ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন

তিনি বলেন, “শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।”

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও বিগ ডাটার যুগে প্রবেশ করেছে। এসব প্রযুক্তি যেমন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে, তেমনি প্রচলিত চাকরির বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।

আরও পড়ুন: সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে দেশীয় সক্ষমতাই হবে আমাদের প্রধান শক্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

তিনি বলেন, “মুখস্ত বিদ্যা এবং সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।”

উচ্চশিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে শিল্পখাতের চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বের হলেও অনেকেই বেকার থাকছেন। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দক্ষতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের অন্যতম কারণ।”

শিক্ষা কারিকুলাম সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণের জন্য সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থী অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে কেউ চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।”

প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান মূলত স্মার্ট ইন্টারফেস তৈরি করে বিশ্বব্যাপী সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে এলামনাইদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা ও সৃজনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক ও ইউজিসি সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।