কাপাসিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গোয়ালঘরে আগুন : লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

Sanchoy Biswas
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ১৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩১ অপরাহ্ন, ১৫ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জায়গাজমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে আপন বোনের গোয়ালঘরে আগুন দিয়েছে যুবলীগ নেতা বড়ভাই আ. ছালাম (৪৭)। এতে পুড়ে ছাই হয়ে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে রোববার কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আছমা আক্তার (৪৪) উপজেলা সদর ইউনিয়নের সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তিনি এবং তার স্বামী রফিকুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় কাপাসিয়া প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে জানান, পিতা-মাতার ঔরসে ছোটবোন ফাতেমা আক্তার, বড়ভাই আ. ছালাম এবং ছোটভাই হাবিবুর রহমান ওয়ারিশ হিসেবে রয়েছেন। বিগত ১৯৯৯ সালে পারিবারিকভাবে পিতা-মাতা তাকে পার্শ্ববর্তী গ্রামে বিয়ে দেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে পিতা-মাতা এবং ভাই-বোনদের ইচ্ছায় পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণ করে স্বামী-সন্তান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই বড়ভাই স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আ. ছালাম, তার স্ত্রী রেহেনা বেগম (৪২) এবং তাদের ছেলে সোহানুর ইসলাম রাব্বি (১৭) ঘোরতরভাবে শত্রুতা শুরু করে। তাদের অসুস্থ পিতা-মাতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের জিম্মায় রেখে ইচ্ছেমতো জায়গাজমি লিখে নিচ্ছেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একতরফাভাবে পুরো পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখেন। বোনেরা এসবের প্রতিবাদ করে বিবাদীদের দ্বারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে ১৪৭তম ঐতিহাসিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাদের বিরোধ নিরসনে গত ৮ মে সকালে স্থানীয় মসজিদ মাঠে এক সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওইদিন সকালে ছোট বোন ফাতেমা আক্তার বড়ভাই আ. ছালামকে সালিস বৈঠকের কথা বলে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি এবং সুযোগ পেলে বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে তাড়িয়ে দেয়।

আছমা আক্তার অভিযোগে জানান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্ধারিত সালিস বৈঠকে বড়ভাই উপস্থিত হয়নি। বরং ওই রাতেই তাদের জীবনে মেরে ফেলার জন্য প্রথমে গোয়ালঘরে আগুন দেয় এবং পরে তাদের বসতঘরে আগুন দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। ওই সময় আশপাশের লোকজনের ডাকচিৎকারে ঘুম থেকে জেগে দেখেন উল্লেখিত ব্যক্তিরা দৌড়ে বাড়ির পূর্ব দিকে চলে যাচ্ছে। রাত অনুমান সোয়া ১১টার দিকে তাদের বসতঘর সংলগ্ন উত্তর পাশে আধাপাকা টিনশেড দোচালা ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরক্ষণেই তাদের অবস্থানরত পশ্চিম ভিটির টিনশেড বিল্ডিং ঘরের পূর্ব-দক্ষিণ পাশের টিনের ছাপড়াযুক্ত গাড়ির গ্যারেজে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার সময় তারা টের পেয়ে যান। তাৎক্ষণিক তারা টর্চলাইট এবং গোয়ালঘরের আগুনের আলোতে উল্লেখিত বিবাদীদের দেখতে পান। আগুনে পুড়ে এক লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের দাবি।

আরও পড়ুন: ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডারে আম পাড়া উদ্বোধন করলেন এমপি চাঁদ

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তারা জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আছমা আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে বড়ভাই আ. ছালাম জানান, আমাদের পিতা-মাতা এখনো জীবিত আছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ পিতা অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে আছেন। একই মায়ের সন্তান হিসেবে প্রত্যেকের দায়বদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু তাদের অসুস্থতার কোনো খোঁজখবর বোনেরা রাখেন না। তাদের অবর্তমানে সন্তানরাই হিস্যা অনুযায়ী সকল সম্পত্তির ভাগ পাবে। ছোটবোন আছমা আক্তার ইতিপূর্বে প্রায় এক বিঘা সম্পত্তিতে বাড়ি বানিয়ে নির্বিঘ্নে বসবাস করছে। পিতা-মাতাকে রাজি-খুশি করে বাকি অংশ নিলে ভাইয়ের কোনো প্রকার আপত্তি নেই বলে তিনি জানান। বোনের গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি বোনের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বসবাস করি। ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য অন্যের প্ররোচনায় বোনেরা ষড়যন্ত্র করছে। তিনি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেন।

এ ব্যাপারে থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, আছমা আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভাই-বোনদের মাঝে জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে। সেগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।