বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, ইউএইর সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৩ অপরাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র ও উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে বন্দি থাকা সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। মামলাগুলোর প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয়সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে দুবাই পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা এসব তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুতের কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ

আইনজীবীদের মতে, সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি মূলত অপরাধসংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য, আদালতে তথ্য উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা করেই ইউএইর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ সরকার মনে করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে না। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, জাতিসংঘ সনদের আওতায় উভয় দেশ কিছু বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। অতীতেও এ ধরনের প্রক্রিয়ায় আসামি প্রত্যর্পণের নজির রয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একই গাড়িতে উত্তর ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বিদেশে পলাতক আরও কয়েকজন অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনার নজির রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সিকিউরিটি কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড পারসনস নামে দুটি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় অতীতেও একাধিক অপরাধীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন।

আইজিপি পদ থেকে অবসরের প্রায় দুই বছর পর স্থানীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হলে দুদক তদন্ত শুরু করে। ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অর্ধডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং আরেকটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান।

২০২৫ সালে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়। এরপর গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রথম দফায় বাংলাদেশ সরকার দুবাই পুলিশের কাছে ১৪৪ পৃষ্ঠার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠায়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা