আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দেবেন না, অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিন: নাজিম উদ্দিন আলম

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৩ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

​​আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য বিরোধী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম। 

তিনি বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করুন। নতুন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মাফিয়া সরকারকে ফেরানোর পথ তৈরি করবেন না।

আরও পড়ুন: শত নির্যাতনেও সালাউদ্দিন আহমেদ আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি: রিজভী

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​৯০-এর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের অন্যতম রূপকার ও গণতান্ত্রিক ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি শহীদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’ এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

আরও পড়ুন: এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি জ্বালানিমন্ত্রীর

​প্রয়াত নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনিকে স্মরণ করে নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মনি ভাই আজীবন রাজপথে ছিলেন। তিনি ছিলেন এক নিরহংকার মানুষ। তবে আফসোস, যে শেখ হাসিনার পতন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের জন্য তিনি এত সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই পতন দেখে যেতে পারলেন না। পতনের কিছুদিন আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

​বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমমনা বিরোধীদলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, আওয়ামী লীগের পতন ও মাফিয়া সরকারের বিদায়ের পর দেশের সাধারণ মানুষ বিএনপিকে কেন্দ্র করে একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের আশা করছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে একসাথে ছিলেন, তাদের কেউ কেউ এখন হঠাৎ করেই কেন জানি অস্থির হয়ে উঠেছেন। মাত্র তিন-চার মাসের মাথায় নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিচ্ছেন। এই মুহূর্তে এমন কর্মসূচি কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

​তিনি বিরোধীদলগুলোর অতীত ভুলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আপনারা অতীতেও বারবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতা ও ভুলের পরিচয় দিয়েছেন। আপনারা ৮৬ সালে এরশাদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন, ৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে আন্দোলনের সুযোগ তৈরি করেছিলেন, এমনকি ৪৭ সালেও ভুল রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলেন। বারবার ভুল পথ ধরবেন না। আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়ে এমন কোনো কর্মসূচি দেবেন না যাতে মাফিয়া শক্তি আবার ফায়দা তুলতে পারে।

​বিএনপির ঐতিহাসিক ত্যাগের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে রাখা হয়েছিল, চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আজ এই দলের ত্যাগের কারণেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিএনপির বদৌলতেই অনেকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার ও সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পথ পেয়েছেন। এটা মাথায় রেখে সাবধানে অগ্রসর হওয়া উচিত।

​নতুন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই তিনি দেশের কাজে সময় দিচ্ছেন। বিগত সরকার যে কূপ খনন বন্ধ রেখেছিল, তা অলরেডি ১৫০টি কূপ খননের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয়েছে। সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো নানা জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

​বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, দায়িত্বশীল কর্মসূচি ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যান। যে রাজনীতি আওয়ামী লীগ করেছে—লুটপাট, দখলবাজি ও সন্ত্রাস—সেই রাজনীতি বিএনপি করবে না। কেউ অপরাধ করলে দলের নেতা তারেক রহমান তাকে সাথে সাথে বহিষ্কার করছেন। আগামী দিনে একটি সুন্দর ও সোনার বাংলাদেশ গঠনে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাই।

​বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানুল্লাহ আমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন এমপি, জাতীয়তাবাদী জোটের সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান এবং ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস প্রমুখ।