'ইসিকে বিএনপির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণতের অপচেষ্টা', সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল চায় জামায়াত

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:২২ পূর্বাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আলমকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, যিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তার অধীনে কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

গত রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বিতর্কিত এ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।

আরও পড়ুন: হাসিনাসহ ৩১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা

সরকার গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সরকারি কোম্পানি, করপোরেশন ও সংস্থায় বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১২ জনকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান মো. সামসুল আলম।

সামসুল আলম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব পদ থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে স্বাভাবিক নিয়মে অবসরে যান। অবসরের পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: জুলাইয়ে সম্মিলিত চেতনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ : রিজভী

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলীয় আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চাকরি থেকে অবসরের প্রায় আট বছর পর তাকে আবারও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়োগকে নজিরবিহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরিতে কেউ অতীতে বঞ্চনার শিকার হয়ে থাকলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ভূতপূর্ব পদোন্নতি বা অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অবসরের পর সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকা ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে পুনরায় নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার পর বিএনপির অফিসিয়াল মিডিয়া সেল বিষয়টিকে প্রকাশ্যে উদযাপন করেছে। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়; বরং নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় বিএনপির প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার রাজনৈতিক প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল শক্তি হলো জনগণের আস্থা, নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক মর্যাদা। সেখানে প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং দলীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানো নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, এমন নিয়োগ কেবল রাজনৈতিক বিতর্কই সৃষ্টি করবে না, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে বিতর্কিত এ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা আরও গভীর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে সাম্প্রতিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হলো। বিষয়টি নিয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।