সংবিধান সংশোধন নির্বাচিত সরকার করবে: রিজভী

Sadek Ali
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৪:১৭ অপরাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রশাসনের মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাভাবেই ঘাপটি মেরে বসে আছে তারা সুযোগ পেলেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে।

রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে রিক্সা ও ভ্যানচালদের রেইন কোর্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে কিছু পক্ষ: সালাহউদ্দিন

জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আজকে নানাভাবেই আমাদের এই সমাজের একেবারে মাটির গভীরে ফ্যাসিবাদ অবস্থান করছে অবৈধ টাকা নিয়ে,অবৈধ অস্ত্র নিয়ে।সামনে নির্বাচন এই নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র যদি উদ্ধার করতে না পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাহলে এই নির্বাচন একটি বিপদজনক নির্বাচন হবে।তাই অবিলম্বে নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

রিজভী বলেন,’এই প্রশাসনের মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাভাবেই ঘাপটি মেরে বসে আছে তারা সুযোগ পেলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং গণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করবে।যারা রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেন তারা প্রত্যেকেই দেখছেন আজকে সচিবালয় সহ বিভিন্ন জায়গায় তারা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সেখানে বসে আসেন এবং বিভ্রান্ত তৈরি করার জন্য তারা কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

মানুষ বেকার থাকলে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাবে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।যদি মানুষের কর্মসংস্থান না থাকে তাহলে দুর্ভিক্ষের আলামত তৈরি হবে।আপনাদের দু একজন উপদেষ্টা হয়তো হাঁসের মাংস খেতে পারবেন যে কোন জায়গায় কিন্তু জনগণ তো আর হাঁসের মাংস খেতে পারবে না।সেই আলামত সেই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নজর দিতে হবে।গার্মেন্টস সেক্টর থেকে এক লক্ষ লোকের চাকরি চলে গেছে কারণ অনেক ফ্যাসিবাদের দোসর মিলকারখানার মালিক।আমাদের দল থেকে বারবার বলা হয়েছে মিল কারখানা যেন বন্ধ না হয় প্রয়োজনে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।

জুলাই সনদের ব্যাপারে আইন সংশোধন সংবিধান সংশোধন করতে হলে নির্বাচিত সরকার করবে এমন অভিমত জানিয়ে রিজভী বলেন,’আপনারা জুলাই সনদের বিষয়ে কথা বলছেন জুলাই সনদে যে সুপারিশ আসবে সেখানে যদি আইন সংশোধন করতে হয় সংবিধান সংশোধন করতে হয় সেটা তো নির্বাচিত পার্লামেন্ট করবে।একটি রাজনৈতিক দল বলছেন যে আগেই গণভোট দিতে হবে কিন্তু কেন?যদি মূল নীতিমালায় কোন পরিবর্তন করতে হয় মূলনীতিমালা একটা অখন্ড বিষয় তারপরেও সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংশোধন করা যায়।কিন্তু সেটা তো করবে পার্লামেন্ট।শেখ হাসিনা যেমন গায়ের জোড়ে চালিয়েছে যে প্রধান বিচারপতির সাথে আমার মতের মিল হয়নি অতএব গোয়েন্দা সংস্থার লোকদেরকে পাঠিয়ে দিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।ওই ধরনের আলামত বৈশিষ্ট্য এখন কেন থাকবে?যে নিয়ম ভেঙ্গেছে শেখ হাসিনা সেই নিয়মকে তো আমরা চালু করতে পারি না।আগে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার তৈরি করুন তারা রাষ্ট্রের  স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে সংবিধান যদি সংশোধন করতে হয় তারা করবে সেটা তাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন,’পাঁচই আগস্টের পর আমরা যে অর্জন পেয়েছি সেই অর্জন আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে।কারণ ১৫-১৬ বছর এক নিষ্ঠুর এবং দানবীয় সরকারের রোশানালের মধ্যে নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে এদেশের মানুষ দিন কাটিয়েছে,রাত কাটিয়েছে।সেই দুর্বিষহ দুঃস্বপ্ন যাতে আর না ফিরে আসে তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি করে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ যাতে সুগম না হয়।কারণ এই ১৫-১৬ বছরে জাতিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে।

রিজভী বলেন,’সুখ রঞ্জন বালি দেলোয়ার হোসেন সাইদী কোন অপরাধী নয় দাবি করলেও শেখ হাসিনা জোর করে সুখরঞ্জনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।তাকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছিল।

তিনি বলেন,’তত্ববাবধায়ক সরকারের জন্য জ্বালাও পোড়াও করে নিজেই তা ক্ষমতায় এসে বাতিল করেছে শেখ হাসিনা। দ্বিচারিতার উদাহরন শেখ হাসিনা।

জিয়া পরিষদের সহসভাপতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম- মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ,স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু প্রমুখ।