খালেদা জিয়াকে দিয়ে কখনো দেশবিরোধী কোনো কাজ করানো যায়নি: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, দেশবিরোধী কোনো কাজে তাঁকে ব্যবহার করতে না পারায় দীর্ঘদিন নির্যাতন, কারাবাস এবং উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বগুড়া কালচারাল সোসাইটির আয়োজনে ‘আপোষহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র কর্মময় জীবনের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সঙ্গে তারেক রহমানের টেলিবৈঠক
তিনি বলেন, দুইবার প্রধানমন্ত্রী থাকার পরও বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে কখনো দেশবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত আদায় করা যায়নি। সে কারণেই তাঁকে দীর্ঘ সময় বিনা অপরাধে কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর অসুস্থতাও ছিল একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
রিজভী আরও বলেন, বাংলাদেশে এখনো বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও কয়লার মজুত রয়েছে, যা দখলের জন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা শক্তি সক্রিয়। কিন্তু একজন জাতীয়তাবাদী নেত্রীর হাত ধরে দেশের সম্পদ লুট করা সম্ভব হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকার যে বাংলাদেশবিরোধী ও পরিবেশবিরোধী চুক্তিগুলো করেছে, সেগুলো বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে করানো যায়নি—এটাই তাঁর দেশপ্রেমের বড় প্রমাণ।
আরও পড়ুন: ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যকে ঐতিহাসিক ঘোষণা নাহিদ ইসলামের
বিএনপির এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দল ও জাতি যেন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। মা-হারা সন্তানের মতো এক ধরনের শূন্যতা ও হতাশা সবাই অনুভব করছে। এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়—তিনি আর আমাদের মাঝে নেই।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলের নির্যাতন ও দমন-পীড়নের মধ্যে দিয়ে প্রতিদিনের ক্লান্তি নিয়ে রাতে দেশনেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তাঁর দৃঢ় মনোবল থেকেই সবাই নতুন শক্তি পেতেন। মনে হতো, হিমালয়ের মতো অটল এক নেতৃত্ব জাতির পাশে দাঁড়িয়ে আছে—যিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় অবিচল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।





