বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতায় সিদ্ধান্ত

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ন, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৩ অপরাহ্ন, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় ত্যাগের সমন্বয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দলটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায়, যা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের রাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া শেষ দিনের সাক্ষাৎকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অংশ নেন। বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রার্থীদের ডেকে তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে দলীয় মনোনয়ন বোর্ড।

আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাষানটেক এলাকায় হাম সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ

সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে আগ্রহী প্রার্থীদের রাজনৈতিক যোগ্যতা, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং অতীত অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হচ্ছে। সাক্ষাৎকার শেষে দলীয় নীতিনির্ধারকরা একটি সমন্বিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করবেন।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল এবং আপিল শুনানি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নির্ধারিত হওয়ায় বিএনপি ও তার জোট উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। দলীয় হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং আরও কয়েকটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির প্রায় ৩৭টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, একই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যেও আসন বণ্টন নির্ধারিত হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের শরিক দলগুলো ১৩টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছে, যেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) কোনো জোটে না থাকায় পৃথক অবস্থান বজায় রেখেছে।

দলীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার মোট এক হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার টাকা এবং জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, দিলরুবা খান, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার এবং নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী। তবে দলীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনাই প্রাধান্য পাবে।