১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জের পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা, কর্মসূচি পালনের ঘোষণা
হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে জেলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই হবিগঞ্জে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক।
আরও পড়ুন: শ্রমিক কল্যাণ থেকে জনস্বার্থে সংকট সমাধান—শ্রমিকের পাশে থাকার অঙ্গীকার শিমুল বিশ্বাসের
এর আগে একই স্থানে এনসিপি, বিএনপি ও ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হবিগঞ্জগামী কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এবং কেন্দ্রীয় নেতা সারোয়ার তুষারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আরও পড়ুন: 'সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি হচ্ছে'—আখতার হোসেন
নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সিলেটে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে বিকেলে হবিগঞ্জে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদলের একাধিক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জেও কর্মসূচি পালন করা হবে।
স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের ঘটনার পর কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে অবস্থান নেন। সেখান থেকেই তারা বুধবার হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
এদিকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, প্রশাসন যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি করেছে, তাই দলীয় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ চলাকালে এবং কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও অবরোধের ঘটনা ঘটে। এ সময় সারজিস আলম ও নাহিদ উদ্দিন তারেককে ঘিরে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় তারা রাতেই ঢাকা অভিমুখে রওনা হন।
এদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের পুনরায় হবিগঞ্জে যাওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।





