কাতারকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় কানাডার, ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে নেমে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে কানাডা। স্বাগতিকরা একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। ম্যাচের নায়ক জোনাথান ডেভিড, যিনি হ্যাটট্রিক করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শুক্রবার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণে কাতারের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা।
আরও পড়ুন: মেসির জোড়া গোলে সান লুইসকে হারিয়ে ইন্টার মায়ামির দাপুটে জয়
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কাইল লারিনের গোলে এগিয়ে যায় কানাডা। জোনাথান ডেভিডের নেওয়া শট কাতারের গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও রিবাউন্ড থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন লারিন। এরপর ২৯তম মিনিটে ডান পায়ের নিখুঁত ভলি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেভিড।
৩৩তম মিনিটে তেজন বুকানানকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের হোমাম আহমেদ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আরও চাপে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিনিধিরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে কানাডাকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডেভিড।
আরও পড়ুন: ৮৫ রানেই ইতিহাস, ফাইনালে গ্লোবাল সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন গায়ানা
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও বিপদে পড়ে কাতার। আসিম মাদিবো বিপজ্জনক ট্যাকল করে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখলে দলটি ৯ জন নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনেয়ে গুরুতর চোট পান এবং তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
কোনেয়ের পরিবর্তে মাঠে নামা নাথান সালিবা ৬৪তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। এরপর ৭৫তম মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে কাতারের মোহাম্মদ মানাই কানাডার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথান ডেভিড। তার গোলেই ৬-০ ব্যবধানে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে কানাডা।
পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখা কানাডা মোট ৩২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে কাতার মাত্র দুটি শট নিলেও একটিও গোলমুখে রাখতে পারেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল কানাডা। একই সঙ্গে এক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ডেভিড নিজেকে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন।





