১৪ ‘পিংক বাস’ দিয়ে শুরু, নারীদের জন্য আসছে আরও ১০০ ই-বাস
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রাথমিকভাবে ১৪টি বাস দিয়ে শুরু হওয়া এই সেবা ভবিষ্যতে আরও রুট ও বাসে সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পিংক বাস’ সেবার উদ্বোধন করেন তিনি।
বিআরটিসি জানিয়েছে, ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস দিয়ে বিশেষ এই সেবা চালু হয়েছে। চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। সব মিলিয়ে তিন শহরে ১৪টি বাস এ সেবার আওতায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: আজ থেকে রাজধানীতে চালু নারীদের জন্য পিংক বাস সার্ভিস
ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল। নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরদের মাধ্যমে বিশেষ এই বাসসেবা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল আলম বলেন, নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এই সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন রুটে বাস চালুর পাশাপাশি বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকার সড়কে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’, চলবে যেসব রুটে
তিনি বলেন, শুধু বাস চালু করলেই হবে না; পুরো সেবার মান সময়ের সঙ্গে উন্নত করতে হবে। নারী যাত্রীরা যেন বাসে ওঠা, যাতায়াত ও নামার সময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
নতুন এই বাসসেবা যেন কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে কোনো কোনো সেবা উদ্বোধনের কয়েক মাস পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকার এমনটি হতে দেবে না।
বিআরটিসি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মঙ্গলবার যে সেবা শুরু হলো, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। নতুন ব্যবস্থার জন্য বিদ্যমান লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল পুরোপুরি প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। তবে প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, নারীদের নিরাপত্তা শুধু বাসের ভেতরের বিষয় নয়। বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময়, ওঠার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়—পুরো যাত্রাপথই নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করা প্রয়োজন।
পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস সরাসরি কেনার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শেখ রবিউল আলম। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ই-বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, দরপত্র ও আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব পরিবহন চালুর লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ই-বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে বর্তমানে চালু থাকা এলাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগেও নারীদের বিশেষ বাসসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকার বাস রুট ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক রুটের অস্তিত্ব না থাকলেও সেসব রুটের পারমিট রয়েছে। আবার অনেক রুটে পারমিট না থাকলেও বাস চলাচল করছে।
যাত্রীদের চাপ ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বাসের রুট ও রুট পারমিট নতুন করে নির্ধারণ এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিআরটিসির ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, সংস্থাটি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে লোকসানে নেই; বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে মানসম্মত সেবা ও অপারেশনে সমস্যা রয়েছে। বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাকে যুগোপযোগী ও যাত্রীবান্ধব করতে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।





