আমাদের এখনো সাড়ে চার মাসের রিজার্ভ আছে: বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী
টাঙ্গাইলে বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, আইএমএফ এর নিয়ম অনুযায়ী আমাদের তিন মাসের আমদানির পরিমান রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু আমাদের এখনো সাড়ে চার মাসের রিজার্ভ আছে। শনিবার (০১ জুন) বিকেলে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে ১০দিন ব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক চাপ মানে আমরা বলতে চাচ্ছি, আমাদের যারা প্রবাসী ভাইয়েরা আছে তারা যদি বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠায়, আমাদের রপ্তানি আয়টা যদি আরেকটু বাড়ে তাহলে আমরা আস্তে আস্তে চাপ থেকে মুক্ত হতে পারবো। সবচেয়ে বড় কথা বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমাদের যে আমদানি রপ্তানির গ্যাপ রয়েছে, এই গ্যাপ ফুলফিল করার জন্য আমাদের বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ দরকার। আমারা অনেক দেশ থেকে প্রতিশ্রæতি পেয়েছি। ওই বিনিয়োগ গুলো চলে আসলে আমরা অনেকটা চাপমুক্ত ভাবে আগের মতো করে আমদানি রপ্তানি করতে পারবো।
আরও পড়ুন: এনসিটি ইজারা বিরোধে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু, অচল চট্টগ্রাম বন্দর
প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে আলুর দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, বিশ্বের ৯৩ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে আলুর দাম কম। এছাড়াও আসন্ন ঈদে দ্রব্য মূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।
এসময় মন্ত্রী জানান, বর্তমানে অর্থনীতির চাপের মধ্যে রয়েছে দেশ। এক সময় আমাদের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত গিয়েছিল। সেখান থেকে আমাদের রিজার্ভ কমে এসেছে। সেখানে হলো আমাদের রিজার্ভ যখন কমে আসছে তখন তো আমরা একটু চাপে থাকবোই। তবে যেকোন দেশেই ৩ মাসের রিজার্ভ থাকলেই কোন সমস্যা হয়না সেখানে আমাদের প্রায় সাড়ে ৪ মাসের রিজার্ভ আছে। যদি বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আসে ও বিদেশে রপ্তানি বিনিয়োগ বাড়ানো যায় তাহলে সুবিধা হবে।
আরও পড়ুন: ‘আসমানে ফয়সালা হয়ে গেছে তারেক রহমানই আগামীর প্রধানমন্ত্রী’
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সবসময় আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চেষ্টা করি। ঈদেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ যেন রপ্তানি করা যায় বিদেশে সে ব্যবস্থা করছি । এবছর আমরা হস্তশিল্পকে বর্ষ পণ্য হিসাবে ঘোষনা করেছি।
এর আগে বেলুন উড়িয়ে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিসিকের উদ্যোগে মেলার উদ্বোধন করেন বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। পরে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখে বানিজ্য প্রতিমন্ত্রী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন। জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, আঞ্চলিক কার্যালয় বিসিক পরিচালক ও উপসচিব ড. মো. আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান বিন মুহাম্মাদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি,দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল বিসিক সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাছ বেগম। প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মেলায় ৫৪ টি স্টল অংশ নিয়েছে।





