কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ১:০৪ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়। চার মাস ১৭ দিন পর খোলা দানবাক্সগুলো থেকে এবার রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার অলংকারও পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংক কর্মকর্তা, ছাত্র ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ প্রায় ৫০০ জনের একটি দল টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছে।

আরও পড়ুন: হামলার শঙ্কায় রংপুরে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান

এর আগে ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ১১টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ২৯ বস্তা টাকার মধ্যে গণনা শেষে পাওয়া গিয়েছিল ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা।

আড়াইশ বছরের পুরনো এ মসজিদকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। এলাকার মানুষ বিশ্বাস করেন, এখানে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। ফলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, এমনকি গবাদিপশুও দান করে থাকেন।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি পালিত

বর্তমানে ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এ মসজিদকে পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্সের রূপে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হবে, যেখানে একসঙ্গে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

মসজিদের দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, সমাজকল্যাণমূলক খাত এবং হাসপাতালে ব্যয় করা হয়। করোনাকালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবকদেরও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এই তহবিল থেকে।