নবনির্বাচিত সরকারকে স্বাগত জানিয়ে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের আনন্দ র‍্যালি

Sanchoy Biswas
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:০৩ অপরাহ্ন, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নবনির্বাচিত সরকার গঠন হওয়ায় গণমানুষের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে স্বাগত ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্যোগে এক আনন্দ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নির্বাচনকালীন প্রশাসনের প্রতিও সন্তোষ প্রকাশ করেন শ্রমজীবী মানুষ।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে অনুষ্ঠিত এই র‍্যালিতে বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার শত শত শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি বাইপাইল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন।

আরও পড়ুন: ভালুকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এএসআই আটক

এ সময় বক্তব্য রাখেন আশুলিয়া থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মুন্সি, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার ফেডারেশনের ঢাকা জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সবুজ বাংলা গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, শ্রমিক নেতা মাসুদ রানা সুলতান, জায়ান্ট স্টার ফ্যাশন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক সোহাগ, মাছিহাতা সোয়েটার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শফিক উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন আলীসহ বিভিন্ন কারখানার বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও দুর্যোগে বিএনপি সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী খাদ্য সংকট মোকাবিলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইরি ধানের চাষ সম্প্রসারণ ও খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতকে যুগোপযোগী করে লাখো মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করেন।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় আবারও এক সপ্তাহে ৩ জন খুন

তারা আরও বলেন, নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি মানুষের অধিকার ও মুক্তির প্রশ্নে আপসহীন থেকেছে। এ কারণেই জনগণ বিপুল ভোটে বিএনপিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে বলে বক্তারা মনে করেন।

র‍্যালি থেকে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বাস্তবায়ন, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করা এবং সকল বন্ধ কারখানা চালু করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

বক্তারা বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার পেছনে নির্বাচনকালীন প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। এ জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শ্রমজীবী মানুষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সরকার শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।