শ্রীপুরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য কর্মকর্তাকে বদলি
গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি খাদ্য গুদামে খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমসহ চাল-আটা বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই দফা তদন্তের পর ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) আসাদুজ্জামান ভূঁইয়াকে বদলি করা হয়েছে।
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ঢাকা থেকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক কারণে তাকে শ্রীপুর এলএসডি, গাজীপুর থেকে বদলি করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জে পদায়ন করা হয়।
আরও পড়ুন: নকলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষকের মৃত্যু
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি এস এম জহিরুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, খাদ্য অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ওএমএস কার্যক্রমে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ডিলারদের কাছ থেকে অবৈধ কমিশন গ্রহণ, সরকারি খালি বস্তা বিক্রি এবং মিলারদের সঙ্গে অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে দুর্বৃত্তের আগুনে দগ্ধ মৎস্য খামারির মৃত্যু
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৬ জানুয়ারি প্রথম দফায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল শ্রীপুর খাদ্য গুদামে আসে। তবে তদন্তের পরিবর্তে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকা এবং সাংবাদিকদের এড়িয়ে গোপনে স্থান ত্যাগ করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
তাদের এই প্রশ্নবিদ্ধ তদন্তের কারণে পরে ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় আরেকটি তিন সদস্যের তদন্ত দল গুদামে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্ত দলে ছিলেন,গাজীপুর সদর ফুড অফিসার নাইয়া নুর , সহকারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারেক রহমান এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফি আফজাল আহমেদ।
কিন্তু তদন্ত চলাকালে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য জানাতে অনীহা প্রকাশের অভিযোগ ওঠে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে বক্তব্য নিতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফি আফজাল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকরা ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শ্রীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. কামাল উদ্দিন সরকার জানান, অনিয়মের অভিযোগে ওসি এলএসডি আসাদুজ্জামানকে শাস্তিমূলক বদলি (পানিশমেন্ট) দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু বদলি নয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় যদি কারও গাফিলতি বা সংশ্লিষ্টতা থাকে, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।





