চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গভীর রাতে একেএস কারখানায় ডাকাতদলের হানা, আহত-৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শীতলপুর এলাকায় অবস্থিত আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠান একেএস স্টিল কারখানায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার সময় এই ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল কারখানায় দায়িত্বরত প্রহরীদের পিটিয়ে আহত করে কারখানার ভিতরে প্রবেশ করে স্ক্র্যাপ লোহা ও রড লুটের চেষ্টা চালায়। এ সময় ডাকাতদলের হামলায় কারখানার নৈশপ্রহরীসহ ৬ জন আহত হন।
তবে কারখানার নৈশপ্রহরীরা মাইকে ডাকাত প্রতিরোধের আহবান জানালে স্থানীয় বাসিন্দারা (নারী ও পুরুষ) এগিয়ে আসে এবং ডাকাতরা পিছুহটে। এই ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি উক্ত কারখানার সিকিউরিটি শিষ্ট ইনচার্জ, সন্দ্বীপ পৌরসভার রহমতপুর গ্রামের ফজলের রহমানের পুত্র মোঃ আলাউদ্দিন (৫১) বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা (নং-৩৫) দায়ের করেন। মামলায় চিহ্নিত ১০ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫–২০ জনকে আসামী করা হয়।
আরও পড়ুন: বাউফলে নারী'সহ ৪ মাদক কারবারি আটক; গাঁজা-ইয়াবা উদ্ধার
চিহ্নিত আসামীরা হলেন- সীতাকুণ্ডের শীতলপুর বগুলা বাজারের মোঃ বোরহানের পুত্র মোঃ রাজিব প্রকাশ বাইল্ল্যা (৩৫), মোঃ রাজু (৩০), মান্না (৩৩), মোঃ আব্দুর রহিমের পুত্র রবিউল হোসেন (৩৩), মোঃ বাছা মিয়া (২০), শাহ আলমের পুত্র মোঃ ইমন-১, আবুল কালামের পুত্র সুমন (১৯), মোঃ দৌলা মিয়ার পুত্র ইমন-২, মোঃ সেলিমের পুত্র রাকিব (২০), মোঃ সাইফুলের পুত্র মোঃ ফারুক (২২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১৫–২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
জানা গেছে, সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন ৮ নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর চৌধুরীঘাটা আবুল খায়ের স্টীল মেন্টিং লিমিটেড ফ্যাক্টরীর ভিতরে মেইন গেট দিয়ে ডাকাতদল প্রবেশ করে। কারখানার ভিতরে থাকা স্ক্র্যাপ জাতীয় মালামাল পূর্বেও বিভিন্ন তারিখে উক্ত চিহ্নিত ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে কোম্পানির ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং দায়িত্বে থাকা প্রহরীদের মারধরসহ তাদের অগোচরে ভিতরে প্রবেশ করে স্ক্র্যাপ সহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ভোলার দৌলতখানে জেলেদের মাঝে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন
২৭ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১টায় প্রথমে কারখানার দক্ষিণ পাশ দিয়ে আসামীরা লুটতরাজের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। এই সময় কারখানার নিরাপত্তাকর্মী, সিকিউরিটি আনসার ও কর্মচারীরা মিলে তাদের প্রতিহত করেন। পরবর্তীতে আসামীরা দক্ষিণ পাশ থেকে রেললাইনে চলে যায় এবং রেললাইনে "থাকা পাথর" নিয়ে বাদীসহ কোম্পানির সিকিউরিটি আনসার ও কর্মচারীদের উপর নিক্ষেপ করতে থাকে। রাত ১টা ১০ মিনিটে তারা কারখানার প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং নিরাপত্তা কর্মীর অফিসে হামলা চালায়।
আসামীরা তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র (রামদা, কিরিচ) দ্বারা এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরবর্তীতে মেইন গেট ও অফিসে থাকা চেয়ার, টেবিল এবং কোম্পানির মিনি পিকআপ গাড়ী (নং-চট্ট মেট্রো-ম-১১-১৩২৫) ভাঙচুর করে তিন লক্ষ টাকা ক্ষয়ক্ষতি করে। পরে আসামীরা অফিসের ড্রয়ার থেকে বিশ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
লোকজন এগিয়ে আসায় ডাকাতরা পিছু হটে। আহতদের কোম্পানির নিজস্ব মেডিকেল কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আবুল খায়ের গ্রুপের ডিজিএম ও এইচআরএডমিনের ইনচার্জ ইমরুল কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ ২৫–৩০ জন অস্ত্রধারী ডাকাত কারখানায় লুটপাটের চেষ্টা চালায়।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।





