ঘটনার দুই দিন আগে থানায় জিডি
সিলেটে বৃদ্ধকে ফাঁসানোর নেপথ্যে কী?
সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলাৎকারের অভিযোগে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের মামলার বিপরীতে বিবাদী পক্ষের দাবি—এলাকার চিহ্নিত একটি চাঁদাবাজ ও মাদকসেবী চক্র ‘মব জাস্টিস’ বা গণধোলাইয়ের আড়ালে নাটক সাজিয়ে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের প্রতিকার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত বৃদ্ধের স্ত্রী রুশনা বেগম।
আরও পড়ুন: পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান
মামলার বিবরণ ও পুলিশের পদক্ষেপ:
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে বিকেলে পূর্বপরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক কিশোরকে বেড়ানোর কথা বলে এয়ারপোর্ট থানাধীন পশ্চিম সুবিদবাজার এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কিশোরটিকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা ভিকটিমকে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০, তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল সড়ক যোগাযোগ
এরই জেরে গত ৫ জুন রাতে শাহজালাল উপশহরের এবিসি পয়েন্ট এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটককৃতরা হলেন—মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর গ্রামের (বর্তমানে শাহজালাল উপশহরের ব্লক-এ-এর বাসিন্দা) আব্দুস শুক্কুর বকুল (৮০) এবং সিলেটের খাসদবীর এলাকার বাসিন্দা মো. খায়রুল ইসলাম প্রকাশ বাবলা (৩৫)। ভিকটিমের পিতার দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (মামলা নং-০৩, তারিখ: ০৬/০৬/২০২৬) রুজু করে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঘটনার ৩ দিন আগে শাহপরাণ থানায় জিডি:
এদিকে, মামলাটিকে সম্পূর্ণ ‘সাজানো ও বানোয়াট’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন আব্দুস শুক্কুর বকুলের স্ত্রী রুশনা বেগম। তিনি জানান, এই ঘটনার চার দিন আগে চলতি জুন মাসের ৩ তারিখে ব্ল্যাকমেইলিং ও প্রাণনাশের হুমকি থেকে বাঁচতে তার স্বামী নিজে বাদী হয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২৯, তারিখ: ০৩/০৬/২০২৬) করেছিলেন।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল উপশহরের ব্লক-বি এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও চাঁদাবাজ মুহিবুর রহমান (১৮) দীর্ঘদিন ধরে এই বৃদ্ধের প্রবাসে থাকা ছেলেদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাস্তাঘাটে হেনস্তা ও ইয়াবা সেবনের টাকা দাবি করে আসছিল। গত ৩ জুন সকালে জিন্দাবাজার যাওয়ার পথে মুহিবুর ওই বৃদ্ধকে আটকে পুনরায় টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও সুযোগমতো খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রীর বক্তব্য:
প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে রুশনা বেগম বলেন, “আমার স্বামীর বয়স ৮০ বছর। তিনি নিজেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে জর্জরিত। তার পক্ষে এমন জঘন্য কাজ করা শারীরিকভাবে অসম্ভব। মূলত ৩ জুনের জিডির জের ধরে এবং আমাদের প্রবাসী ছেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে মাদক ব্যবসায়ী মুহিবুর ও তার চক্র পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ বা উত্তেজিত জনতা সৃষ্টি করে এই সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন ও সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করলেই এই মিথ্যাচারের আসল রূপ বেরিয়ে আসবে। একটি নিরপরাধ পরিবারকে সামাজিকভাবে ধ্বংস করার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছে একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান।





