শ্রীপুরে আ’লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছের জানাজায় মানুষের ঢল

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৫ অপরাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আনিছুর রহমানের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে মানুষের ঢল নেমে আসে। জানাজার মাঠ ছাড়িয়ে মুসল্লিরা আশপাশের সড়ক, অলিগলি ও বাসাবাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে জানাজায় শরিক হন।

সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় মাধখলা গ্রামে তাঁর বাড়ির পাশে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভাইয়ের শোকে মৃত্যুবরণ করা আনিছের বোনেরও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাবাজার পত্রিকার রিপোর্টের জের: বড়লেখার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের আসামি গ্রেফতার

টানা চারবার শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনিছকে শেষবারের মতো দেখতে ও জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের ঢল নামে।

জানাজা শেষে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান উপস্থিত মুসল্লিরা।

আরও পড়ুন: প্রস্তাবিত শেরপুর মেডিকেল কলেজের জায়গা পরিদর্শন

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, আওয়ামী লীগ, শিক্ষক, আলেম সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ।

উল্লেখ্য, আনিছুর রহমান (৬২) গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শ্রীপুর পৌরসভার ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারাদেশের ৩২৩ পৌরসভার মেয়র অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ সময় শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানকেও অপসারণ করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আনিছুর রহমান জনসম্মুখে আসেননি।

এরই মধ্যে তিনি ডায়াবেটিস, কিডনি ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস করাতেন। গত রোববার তাকে ডায়ালাইসিস করাতে উত্তরার শিপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডায়ালাইসিস চলাকালীন সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মেয়র আনিছুর রহমানের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে তাঁর বড় বোন রাশিদা খাতুন জ্ঞান হারান। এ সময় তাকে মাওনা চৌরাস্তার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।