মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সোমবার (১ জুন) ভোরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে বাহিনীটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার শিকার হওয়া মার্কিন ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে অবস্থিত, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি আইআরজিসি।
আরও পড়ুন: আতশবাজির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, শহরজুড়ে কেঁপে ওঠার অনুভূতি
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এর আগে মার্কিন বিমান হামলার শিকার হয়েছিল। এর জবাবে যে সামরিক ঘাঁটি থেকে ওই হামলা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই ঘাঁটিকেই লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে এবং পূর্বনির্ধারিত সব টার্গেট সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীটি বলেছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব হবে আরও কঠোর এবং ভিন্ন মাত্রার। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে তার দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরানের এ হামলার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) বা অন্য কোনো মার্কিন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, হরমুজগান প্রদেশের গরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের রাডার এবং ড্রোনের কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টারে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালানো হয়েছে।
মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পাল্টা হামলার দাবি সামনে আসে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়ায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি





