স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি এগোচ্ছে, কমিশন সভার অপেক্ষায় ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক নীতিগত ও প্রশাসনিক বিষয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) শারীরিক অসুস্থতার কারণে কমিশনের পরবর্তী সভার তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সোমবার (৮ জুন) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, কমিশন সভা কবে অনুষ্ঠিত হবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সিইসির একটি অস্ত্রোপচারের বিষয় ছিল, যা নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়নি। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করছে সচিবালয়।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী ব্যয়ে জমা না দেওয়ায় ২১ জন এমপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াচ্ছে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে খসড়া প্রস্তুত:
সিনিয়র সচিব জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধির খসড়া প্রস্তুতের কাজ অনেকটাই শেষ হয়েছে। কমিশনের পর্যায়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং কমিশনের অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত করা হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন ভবন ঘিরে অবৈধ কম্পিউটার-ফটোকপি দোকান গুঁড়িয়ে দিল ইসি
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও কমিশনের আলোচনায় রয়েছে। এসব বিষয়ে কমিশনের সদস্যদের মতামত ও নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক করতে বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের পরিবর্তে নির্দলীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের মধ্যে আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত প্রকাশ করবে ইসি:
আখতার আহমেদ জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া মতামত কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কমিশনের আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে বিষয়টি অনুমোদনের পর মতামতগুলো প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে এবং গণমাধ্যমের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তার ভাষ্য, নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জনগণের সামনে তুলে ধরতে আগ্রহী।
দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় নির্বাচন?
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন আয়োজনের যে বিধান রয়েছে, তা সংশোধনের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, যদি আইন সংশোধন হয়, তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আবারও নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নেওয়া হবে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলীয় প্রতীকের বাইরে নিয়ে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে, দলীয় পরিচয় গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।
এনআইডির ছবি পরিবর্তন করা যাবে :
এনআইডি সেবা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহৃত ছবি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। অনেক নাগরিক এখনও এ বিষয়ে অবগত নন।
তিনি জানান, ২০০৭ বা তারও আগে তোলা ছবি ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন ছবি সংযোজন করতে পারবেন। তবে এজন্য কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র ছবি পরিবর্তনের আবেদন করলেই নতুন ছবি যুক্ত করা হয় না। আবেদনকারীর আঙুলের ছাপসহ একাধিক বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করা হয়। ফলে অন্য কারও ছবি যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
তার ভাষায়, “চারটি গুরুত্বপূর্ণ যাচাই স্তর রয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়।”
আচরণবিধি ও যোগ্যতা নিয়ে আলোচনা:
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আচরণবিধি ও প্রার্থীর যোগ্যতা সম্পর্কেও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিনিয়র সচিব।
তিনি জানান, খসড়া আচরণবিধি এখন কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদনের পর তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়, মামলা কিংবা দলীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রার্থিতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলোও আইনগত ও নীতিগতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা
নির্বাচন কমিশন মনে করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে যে সংস্কার আলোচনা চলছে, তা বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশি অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হতে পারে। কমিশনের আসন্ন সভায় এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।





