মাকে ‘মৃত’ বানিয়ে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি—ঈশ্বরগঞ্জে চাঞ্চল্য
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে এবং ভাই-বোনদের বঞ্চিত করে পৈতৃক পারিবারিক সম্পত্তি স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
জানা যায়, উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ভাটির চরনওপাড়া গ্রামের মৃত সাহেদ আলীর পুত্র আব্দুল হান্নান তার মা রহিমা খাতুনকে মৃত দেখিয়ে ২০১৪ সালে ঈশ্বরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ৫৪৮১ নম্বর দলিল সম্পাদন করেন। ওই দলিলে শুধু জীবিত মাকে মৃত দেখানোই হয়নি, ২ ভাই ও ৪ বোনের নামও উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগ, কৌশলে বাবার ৩৯ শতক জমি স্ত্রী হেলেনা খাতুনের নামে লিখে দেন হান্নান।
আরও পড়ুন: কসবা-আখাউড়ায় নেতাকর্মীদের নিয়ে কবীর আহমেদ ভূঞার ইফতার মাহফিল
সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। দলিলে মৃত দেখানো রহিমা খাতুন বলেন, “আমি তো বাবা মরছি না, আমার পুতে দলিলে আমারে মাইরালছে। মাইরা পুতের বউয়ের নামে জমি লেইখ্যা নিছেগা।”
হান্নানের চার বোন—আম্বিয়া, মিনারা, ইয়াসমিন ও তহুরা বেগম—অভিযোগ করে বলেন, “বাবার সম্পত্তি মারে মরা দেখাইয়া বড় ভাই তার বউরে লেইখ্যা দিছে। আমরারে ওয়ারিশানতে বাদ দিছে। আমরা এর বিচার চাই।”
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পীর সাজিদ আলী ফাউন্ডেশনের হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
ছোট দুই ভাই মজিদ ও প্রবাসে থাকা সোহেল রানাও একই অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতেই এ কৌশল নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের হয়রানি করতে পুকুর থেকে মাছ চুরির মিথ্যা অভিযোগও করা হয়েছে বলে তারা জানান। তবে পুলিশ তদন্তে চুরির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আব্দুল হান্নানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “দলিল লেখার সময় হয়তো কম্পিউটারে ভুল হয়েছে। আমি মাকে মৃত দেখাইনি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকির বলেন, “আমি ওয়ারিশান সনদে রহিমা খাতুনকে মৃত দেখাইনি। দলিলে কীভাবে এমন হয়েছে, তা বলতে পারব না।”





