ঈশ্বরগঞ্জে প্রবীণ শিক্ষকের সংবর্ধনা, আবেগঘন পরিবেশে বিদায়

Sanchoy Biswas
মাহমুদুল হক শুভ, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ন, ২২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:০৪ পূর্বাহ্ন, ২৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর ঘাগড়া গোরস্থান নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক আলহাজ্ব হাফেজ আবুল কাসেম (দা.বা.)-কে সম্মান জানিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় উপলক্ষে সাবেক শিক্ষার্থীরা এ আয়োজন করেন।

রবিবার (২২ মার্চ) সকালে মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: আমি সেই দিন হবো ক্ষান্ত, যেই দিন রোগীরা হবে শান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবন, সততা, নিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, আলহাজ্ব হাফেজ আবুল কাসেম শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং তিনি ছিলেন একজন আদর্শ পথপ্রদর্শক।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আবুল ফজল (দা.বা.) শিক্ষকের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী, রাজিবপুর আফতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন, আবুল হাসেম মড়ল, হাসিম উদ্দিন বেপারী, দেলোয়ার হোসেন ও শাহজাহান কবির শাজুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আরও পড়ুন: উলিপুরে ঈদের দিন দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে লাখ টাকার ক্ষতি

বিদায়ী বক্তব্যে আলহাজ্ব হাফেজ আবুল কাসেম (দা.বা.) মাদ্রাসার সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই মাদ্রাসা আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত আমি আজীবন মনে রাখব।” একই সঙ্গে কর্মজীবনে কোনো ভুল-ত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী শিক্ষক ও অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা স্মারক, নগদ এক লক্ষ টাকা এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এছাড়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অবদান রাখা প্রয়াত শিক্ষকদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে এক গভীর ভাবগাম্ভীর্য যোগ করে।