ভাঙা ব্রিজ ও গর্তে নাকাল জনজীবন, দ্রুত সংস্কারের দাবি
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাট-জাওরানী সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং অবহেলার কারণে সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাপারহাট থেকে কালীমনের ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে মাটির রাস্তা বের হয়ে এসেছে, আবার কোথাও সড়কের এক পাশ ধসে পড়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে কালীমনের ব্রিজটি—ব্রিজের দুই পাশের কিনারা ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল করলেও মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: কসবার সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেফতার
এছাড়া কালীমনের ব্রিজ থেকে জাওরানী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বর্ষার শুরুতেই কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, ফলে পথচারী ও যানবাহনের চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কের দুরবস্থার কারণে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে অনেক সময় বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: উখিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ১.৪০ লাখ ইয়াবা জব্দ, পাচারকারী পলাতক
উল্লেখ্য, এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লালমনিরহাট জেলার অন্যতম বৃহৎ হাট ‘চাপারহাটে’ কয়েক লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি এটি সতীরপাড়, বুড়িরহাট, লতাবর ও বোতলা হয়ে চন্দ্রপুর বাজারে যাওয়ার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। ফলে সড়কটির এমন নাজুক অবস্থা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও তা টেকসই সমাধান নয়। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
লতাবর গ্রামের বাসিন্দা ও আদিতমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান জুয়েল বলেন,
“স্বাধীনতার পর থেকেও আমরা অবহেলিত। এই সড়কটি আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি—অতি দ্রুত সড়ক ও ব্রিজ সংস্কারের কাজ শুরু করা হোক।”
স্থানীয় প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—আর আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই জনপদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক।





