তনু হত্যা মামলা: পোশাকে মিলল অজ্ঞাতনামা চতুর্থ ব্যক্তির ডিএনএ

Sanchoy Biswas
মো. মাসুদ রানা, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৪৬ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজন পুরুষের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য দিয়েছিল।

রোববার (১৭ মে) রাত পৌনে ১১টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর তথ্য ছিল। নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজন পুরুষের রক্তের নমুনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় সিএনজির ধাক্কায় আহত বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল মামলায় সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি— সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ক্রসম্যাচের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে আরও একজন পুরুষের রক্তের তথ্য পাওয়ায় মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও মামলাটির তদন্ত তদারকি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরির পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তনু হত্যা মামলায় মোট ২৪টি আলামত পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি আলামতে তিনজন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। এছাড়া একটি কাপড়ে পাওয়া রক্তের নমুনা থেকে আরেকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হয়েছে, যা আগের ডিএনএ নমুনাগুলোর সঙ্গে মেলেনি।

তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, নতুন ডিএনএ তথ্য পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। তবে সন্দেহভাজনদের অনেকের স্থায়ী ঠিকানা শনাক্ত করা যায়নি। তাদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।