কুড়িগ্রামের ইউএনও বাবু নয়ন সাহা ছিলেন একজন মানবিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা
সরকারি কর্মকর্তা অনেকেই আসেন এবং যান, কিন্তু তাঁদের মধ্যে খুব কম মানুষই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিতে পারেন। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বাবু নয়ন কুমার সাহা ছিলেন তেমনই একজন ব্যতিক্রমী, দূরদর্শী এবং মানবিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা। উলিপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে তাঁর অবদানের কথা স্থানীয় মানুষ আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
জনবান্ধব ও মানবিক প্রশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
বাবু নয়ন কুমার সাহা কেবল একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন উলিপুরের সাধারণ মানুষের একজন প্রকৃত অভিভাবক। তাঁর কর্মকাল ছিল উন্নয়ন, সততা এবং কর্মনিষ্ঠার এক অনন্য সমন্বয়।
উন্মুক্ত দ্বার নীতি: সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর দপ্তরের দরজা সবসময় খোলা থাকত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষও যেন সহজে তাঁর কাছে এসে সরাসরি অভাব-অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই পরিবেশ তিনি নিশ্চিত করেছিলেন।
আরও পড়ুন: খুলনায় র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর, দুই আসামি ছিনিয়ে নিল জনতা
সংকটকালীন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব: উলিপুরের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সামাজিক সংকটকালীন সময়ে তিনি শীত-বর্ষা উপেক্ষা করে সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করেছেন। দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম স্থানীয় মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে।
উন্নয়নের রূপকার: উপজেলার শিক্ষা, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে তরুণদের উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।
কেন তাঁর নাম ‘স্বর্ণাক্ষরে’ লেখা থাকবে?
একটি অঞ্চলের ইতিহাসে সবার নাম চিরস্থায়ী হয় না। কিন্তু বাবু নয়ন কুমার সাহা তাঁর কাজের মাধ্যমে উলিপুরের মাটিতে যে গভীর ভালোবাসার ছাপ রেখে গেছেন, তা সহজে মুছে যাওয়ার নয়।
“প্রকৃত সরকারি কর্মকর্তা তিনিই, যিনি ক্ষমতার দাপট দিয়ে নয়, বরং মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ এবং আন্তরিক সেবা দিয়ে সমাজকে বদলে দেন।”
তিনি উলিপুরে কর্মদক্ষতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থানের এক চমৎকার উদাহরণ তৈরি করেছিলেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে একটি সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করেছিল।
কর্মসূত্রে বা সময়ের নিয়মে তিনি হয়তো উলিপুর ছেড়ে গেছেন, কিন্তু উলিপুরের ইতিহাস এবং মানুষের স্মৃতিপট থেকে তিনি কখনো হারিয়ে যাবেন না। উলিপুরের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে দেওয়া তাঁর নিঃস্বার্থ সেবা ও ত্যাগের কারণে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবু নয়ন কুমার সাহার নাম উলিপুরের ইতিহাসে সর্বদা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করি।





