৭ দিনের আল্টিমেটাম
বকেয়া না পেলে দুদক ঘেরাও, আশুলিয়ায় নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া ৭৫ শতাংশ সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন নাসা গ্রুপের বন্ধ ঘোষিত পোশাক কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। দাবি আদায়ে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে সমাধান না হলে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টায় আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের পাশাপাশি শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
আরও পড়ুন: নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৮৪১ পিস ইয়াবা উদ্ধার
সমাবেশে বক্তারা জানান, নাসা গ্রুপ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ১৬টি কারখানা বন্ধ করে দেয়, যেখানে প্রায় ১৯ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রমিক সংগঠন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং শ্রম সচিবের উপস্থিতিতে একটি চুক্তি হয়, যেখানে দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো কোনো পরিশোধ করা হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একের পর এক অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কখনো দুদকের রিটের কথা বলা হচ্ছে, যা শ্রমিক নেতাদের মতে পরিকল্পিতভাবে সময়ক্ষেপণের কৌশল। তারা দাবি করেন, মালিকপক্ষ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের যোগসাজশে শ্রমিকদের শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, উত্তেজনা অব্যাহত
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা মো. মিজানুর রহমান মিজান, ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, মনসুর আলী ও মাসুদ রানা সুলতানসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, এই ১৯ হাজার শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল প্রায় এক লাখ পরিবার বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে। অনেকেই ঘরভাড়া দিতে না পেরে উচ্ছেদের মুখে পড়ছেন, দোকানে বাকি পাচ্ছেন না, এমনকি চিকিৎসা ব্যয় বহন করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ বছর কাজ করা শ্রমিকরাও তাদের প্রাপ্য না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তারা আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নিয়ে কারখানাগুলো বন্ধ করলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী মালিকপক্ষের সম্পদ বিক্রি করে পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সুনির্দিষ্ট সমাধান না এলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন। প্রয়োজনে দুদকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও অনশন পালন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।





