ইটনায় খেয়াঘাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে বর্বরোচিত হামলা-ভাঙচুর

Sanchoy Biswas
মো. রতন মিয়া, তাড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৮:২০ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় রায়টুটি ইউনিয়নের পাথারকান্দি গ্রামে খেয়াঘাটের ইজারা ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মামলা-মোকদ্দমার জেরে বাড়িঘরে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে বাড়ির মালিকসহ অন্তত চারজন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের পাথারকান্দি মাইজপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসী জানায়, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের পাথারকান্দি গ্রামে খেয়াঘাটের ইজারার টাকা ভাগাভাগি ও দুই মসজিদে দান করার বিষয়ে রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল মিয়া আধিপত্য দেখিয়ে জোরপূর্বক গ্রামবাসীদের এড়িয়ে নিজে একা লিজ দিয়ে দেন। এই লিজ দেওয়া ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে টানটান উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে বিএনপি নেতা উজ্জ্বল মিয়া হঠাৎ স্ট্রোকজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। এই আকস্মিক মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিযোগ এনে বাদীপক্ষের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

আরও পড়ুন: ভোটার হতে এসে গৌরীপুরে রোহিঙ্গা যুবক আটক

হামলায় রফিকুল ইসলামের বাড়ি, মেনু মিয়ার বাড়ি, শারজুলের বাড়ি, আনিফার বাড়ি, ওহাবের বাড়ি, মিজাজুলের বাড়ি, তাজুর বাড়ি ও জিয়নের বাড়িতে হামলা করে প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. আনিফা আক্তার (৫৬) বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৫/২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বিবাদী করে ইটনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে নিখোঁজের ৩ দিন পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথারকান্দি মাইজপাড়া গ্রামের মোছা. আনিফা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় সৈয়ব আলী (৫৫), খোকন মিয়া ওরফে লাল খোকন (৪৫), মোশারফ মিয়া (৩০) ও সাইকুল মিয়াদের (৬০) দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমাসংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য চলে আসছিল। গত ৩ জুন বিবাদী মোশারফ মিয়ার মামা মো. উজ্জ্বল মিয়ার হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের আদেশে গত ২৫ জুন ইটনা থানায় মামলাটি এফআইআর (মামলা নং-১০) হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অভিযোগকারীর দাবি, এই মামলার পর থেকেই প্রতিপক্ষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এর জেরে গত ২৬ জুন ২০২৬ রাতে মৃত উজ্জ্বলের পক্ষের লোকজন রামদা, ভল্লম, লোহার রড, হাতুড়ি ও শাবলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় আনিফা আক্তারের বসতবাড়িতে বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের টিনের চাল খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় বাড়িতে থাকা নারীরা বাধা দিলে তাদের ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়। হামলায় আহত হন বাড়ির মালিক আনিফা আক্তার, দোলেনা, মাহমুদা ও জুনুরা।

আহতদের মধ্যে দোলেনাকে লোহার রড ও রামদা দিয়ে আঘাত করায় তার মাথা, ঘাড়, কোমর ও পায়ে গুরুতর হাড়ভাঙা জখম হয়। এছাড়া মাহমুদা নামের আরেক নারীকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আহতদের চিৎকার ও শোরগোল শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় নারীদের কেউ পানিতে, কেউ জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সামাদ বলেন, আমরা পুলিশের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে আসব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।