পলাশবাড়িতে রামমূর্তি
হরিদাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করছে গোয়েন্দারা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সর্বোচ্চ রামমূর্তি নির্মাণ ও হিন্দু কমপ্লেক্সের মালিক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস রিমান্ডে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। হরিদাসের দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই করছে তদন্ত কর্মকর্তারা।
সিআইডি সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তারা হরিদাসকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশের পলাশবাড়ীতে হঠাৎ করে কেন সর্বোচ্চ রামমূর্তি নির্মাণ করা হলো। এত দ্রুত এই অর্থের যোগানদাতা কারা এবং কাদের ইন্ধনে সংবেদনশীল উত্তরাঞ্চলের এই স্থানটিকে নির্বাচন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শ্যামনগরে ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা, আসামি ছিনতাই
হরিদাসের বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি উত্তরায় নিম্নমানের ব্যবসা করলেও ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান হন। পরবর্তীতে আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে গিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে হিন্দুধর্মের প্রসারে কেন হঠাৎ করেই সক্রিয় হন—এসব বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, তার অর্থের উৎস ও রামমন্দির নির্মাণের বিষয়, ধর্মীয় উস্কানি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পদক পেলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার
অর্থ পাচারের মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়ে সিআইডি বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা ইনস্পেক্টর কে. এম. রাকিবুল হুদা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবগুলোতে কারা, কী কারণে অর্থ জমা দিয়েছেন এবং সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় বা হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম। একই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালীমন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার আড়ালে তার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সময়ে ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ তার হিসাবে জমা হয়েছে।





