১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই পটলের দাম দ্বিগুণ

Sadek Ali
আলিফ হোসেন, তানোর
প্রকাশিত: ১২:৪২ অপরাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩৬ অপরাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুরের  বিদিরপুর হাটে কৃষক যে পটল বিক্রি করছেন মাত্র ১৩ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে, সেই একই পটল মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের রাজশাহী শহরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।এই ১৫ কিলোমিটার  দূরত্বের পথ অতিক্রম করতেই পটোলের দাম প্রায় দ্বিগুণ। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হলেও ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, এই অতিরিক্ত অর্থ যাচ্ছে কার পকেটে ? মোহনপুরের এই হাটে শত শত মণ পটল সপ্তাহের দুই হাটের দিন বিক্রি হয়। এখান থেকে পটল যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

গত বুধবার মোহনপুরেে বিদিরপুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রতি মণ (৪৫ কেজি) পটল বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। সেই হিসাবে প্রতি কেজি পটলের দাম দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু রাজশাহী শহরে এসে সেই পটল ওই দিনই হয়ে যায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা। বিদিরপুর বাজারে পটল বিক্রি করতে আসা কৃষক আলম বলেন, 'পটল চাষে খরচ দিন দিন বাড়িচ্চে। এই দামে পটল ব্যাচা (বিক্রি) করে খুব বেশি লাভ হচ্চে না। আবার পটল পুষ্ট (পোক্ত) হয়্যা গেলে তো জমিত রাখা য্যাচ্চে না। পচে যায়। সে কারণে দাম যা-ই হোক বেচতেই হচ্চে। তিনি জানান, সবজি সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা হাটেই বেচে (বিক্রি) দেন।

আরও পড়ুন: জনগণই দেশের মালিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে আপসহীন সরকার: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন কাঁচা বাজারে একই মানের পটল গত শুক্রবার বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। বিদিরপুর হাট থেকে শহরের দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার হলেও এই স্বল্প পথ পেরোতেই দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গত শুক্রবার রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বৃহৎ তাহেরপুর হাটেও প্রতি মণ (৪৫ কেজি) পটোল বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ কৃষক সেখানে পেয়েছেন প্রতি কেজিতে ১৭ থেকে ২০ টাকা। কিন্তু খবর নিয়ে জানা গেছে,গত শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন বাজারে সেই একই পটোল বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

আরও পড়ুন: সোনাগাজীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর

অন্যদিকে তাহেরপুর হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী কাজেম আলী জানান, এক ট্রাক পটল ঢাকায় পৌঁছাতে গাড়িভাড়া, কুলি, লোড-আনলোড, টোলসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এসব ব্যয় বহনের পর কোনো চালানে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়, আবার কখনো সময় লোকসানও গুনতে হয়। তবে মাঝখানে আড়তদার এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা কখনো লোকসান গোনেন না। লোকসান হয় কৃষক অথবা পাইকারদের। মনিরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী জানান, আড়তদাররা সাধারণত বিক্রির ওপর ১ থেকে ২ শতাংশ কমিশন নেন। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্রয়মূল্য যা-ই হোক না কেন, প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লাভ রাখেন। ফলে প্রতিটি ধাপে দাম বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত ক্রেতার কাছে গিয়ে ২০ টাকার পটল হচ্ছে ৫০ টাকা।#