জিপিএফের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

Sadek Ali
মীর রকিবুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৩৫ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:৫২ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী তার জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী মোছাঃ রেহেনা খাতুন, কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের নগরকয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন ১০ নম্বর পান্টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ১০ আগস্ট ২০২১ তারিখে পিআরএল-এ (অবসর-পূর্ব ছুটি) যান।

আরও পড়ুন: ফেনীতে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার জিপিএফ হিসাব থেকে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২ লাখ এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩ লাখ টাকা বৈধভাবে উত্তোলন করেন। এরপর তিনি আর কোনো অর্থ উত্তোলন করেননি। তার হিসাবে তখন মোট স্থিতি ছিল ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৫২ টাকা।

তিনি আরও দাবি করেন, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে অবশিষ্ট জিপিএফের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করলে ৫ এপ্রিল ২০২২ তারিখে উপজেলা নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে জানতে পারেন, সুদসহ তার পাওনা রয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৪ টাকা ৭২ পয়সা। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তিনি হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে বিএনপির ৬ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

রেহেনা খাতুনের অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, ২৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখে তার স্বাক্ষর জাল করে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার মোঃ আলফাজ উদ্দিন তার অজ্ঞাতসারে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ওই অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিসাবরক্ষণ অফিসে সংরক্ষিত উত্তোলনপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে তার প্রকৃত স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই।

অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি একজন অসহায় নারী এবং বর্তমানে তার কোনো উপার্জনের উৎস নেই। ফলে অবসর-পরবর্তী জীবনযাপনের জন্য জিপিএফের অর্থই তার একমাত্র ভরসা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার পাওনা অর্থ উদ্ধার এবং অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার মোঃ আলফাজ উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।