সেপ্টেম্বরে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:১০ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে কেন্দ্রটিতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে এরই মধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়াল পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন

প্রতিটি পরীক্ষার ফল যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একবার পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে রূপপুরের একটি ইউনিট ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এরপর নতুন জ্বালানি দেওয়ার জন্য একটি ইউনিট সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে। পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় দুই পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে গ্রিডের সক্ষমতা নিয়েও কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অত্যন্ত স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সঞ্চালন করতে হয়।

তিনি বলেন, গ্রিডে সামান্য সমস্যাও যাতে বিদ্যুৎ সঞ্চালনে বাধা তৈরি না করে, সে জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরকার কাজ করছে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের আরেকটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে এসব অবকাঠামোর বেশিরভাগের কমিশনিং শেষ হয়েছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনো পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম হয়নি।

তিনি বলেন, এই সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে যেকোনো সময় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। এ কারণে পিডিবির পাশাপাশি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞ ও বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম কত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা ক্রয়চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের শুরুর দিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বলা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন বিদ্যুতের চূড়ান্ত মূল্য নিয়ে নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বেশ কিছু পেমেন্ট আটকে আছে। রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব লেনদেনে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহার করতে না পারায় অর্থ পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, তা নিয়েও এখনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও বাড়তে থাকা লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুরের বিদ্যুৎকে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা সেপ্টেম্বরের পরীক্ষামূলক সরবরাহ কতটা সফল হয়, তার ওপর।